সরকারি ত্রাণ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার পুরসভার চেয়ারম্যান
তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নবদ্বীপ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
Truth of Bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় ভরাডুবির পর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে যে দলীয় ভাঙন ও গণবিক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে, তার আঁচ এবার এসে পড়ল নদিয়া জেলাতেও। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণসামগ্রী বেআইনিভাবে মজুত করে রাখার অভিযোগে আটক হলেন নদিয়ার নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা বিমানকৃষ্ণ সাহা। শনিবার ভোররাত আনুমানিক ৩টে ৪০ নাগাদ বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর নিজ বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। এরপরই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নবদ্বীপ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই ত্রাণসামগ্রী আত্মসাৎ ও দুর্নীতির সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন পুরপ্রধান।
এই হাই-ভোল্টেজ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত শুক্রবার রাতে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নবদ্বীপের বরালঘাট স্পোর্টিং ক্লাবে আকস্মিক অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। ক্লাবঘর থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণের ত্রিপল, কম্বল এবং তন্তুজের শাড়ি। ঘটনাচক্রে, ওই ক্লাবটি পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহার বাড়ির একেবারে পাশেই অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের আপৎকালীন সাহায্যের জন্য সরকারি অর্থে বরাদ্দ হওয়া এই সমস্ত ত্রাণসামগ্রী সাধারণ মানুষকে না দিয়ে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ওই ক্লাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল। আর এই দুর্নীতির প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে আঙুল ওঠে খোদ পুরপ্রধানের দিকেই।
শনিবার ভোররাতে চেয়ারম্যানকে যখন আটক করে বাড়ি থেকে বের করা হয়, তখন পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের আবহে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জনরোষ আছড়ে পড়ে এই তৃণমূল নেতার ওপর। বিমানকৃষ্ণকে গাড়িতে তোলার সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষ তাঁকে লক্ষ্য করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। উত্তেজিত জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক জলের বোতল ও জুতো ছুঁড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন আকার ধারণ করে যে, বিক্ষুব্ধ জনতার ছোঁড়া একটি জুতো সরাসরি বিমান সাহার মাথায় গিয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচন-উত্তর পর্বে রাজ্যের শাসক শিবিরের অস্বস্তিকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।






