তৃণমূল নেতাদের কোমরে দড়ি, প্রকাশ্য রাস্তায় ‘প্রদর্শনী’! এবার পুলিশের ‘দাবাং’ অ্যাকশনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা
বাংলায় ‘যোগী রাজের’ ছায়া? ধৃত তৃণমূল নেতাদের কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানোর জের, হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে পুলিশি সক্রিয়তা এক অন্য মাত্রা নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নিয়েই পুলিশ প্রশাসনকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ বা স্বাধীনভাবে কাজ করার সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন। আর তার পরেই একেবারে ‘দাবাং’ মেজাজে অবতীর্ণ হয়েছে বাংলার পুলিশ। একদিকে যেমন একের পর এক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা শ্রীঘরে ঢুকছেন, তেমনই অন্য দিকে ধৃত ‘বাহুবলী’দের কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক নতুন প্রবণতা বা ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তার জল এবার গড়াল আদালত পর্যন্ত। ধৃতদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হল একটি জনস্বার্থ মামলা।
আকাশ থেকে মানস রায়, বাদ যাচ্ছেন না কেউই
এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল উত্তর হাওড়ার কুখ্যাত দুষ্কৃতী আকাশ সিংকে দিয়ে। মাথা ন্যাড়া ও অন্তর্বাস পরা অবস্থায় তাকে রাস্তায় ঘুরিয়েছিল পুলিশ, যার ভিডিও নেটপাড়ায় ভাইরাল হয়। এরপর একই কায়দায় শিবপুরের তৃণমূল নেতা শামিম আহমেদ এবং সাঁকরাইলের তোলাবাজিতে অভিযুক্ত সাহীন মোল্লা ওরফে সানিকেও কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানো হয়।
ব্যতিক্রম হয়নি উত্তর চব্বিশ পরগনার বীজপুরেও। সেখানে তৃণমূল যুব নেতা বনিকে স্যান্ডো গেঞ্জি ও বারমুডা পরিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটায় পুলিশ। আর সর্বশেষ সংযোজন আলিপুরদুয়ারের কালচিনি। কোটি কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে ধৃত মাঝের ডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল নেতা মানস রায়কে শুক্রবার একইভাবে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হয়। এই সমস্ত ঘটনার পরিপ্রক্ষিতেই পুলিশের এই পদক্ষেপকে বেআইনি ও অমানবিক দাবি করে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। আগামী ৫ জুন এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
‘যোগী মডেল’ বনাম মানবাধিকারের লড়াই
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই স্লোগান দেওয়া হয়েছিল ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’। দুর্নীতি এবং অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল জমানায় যে সমস্ত বাহুবলীদের দেখে পুলিশ সিঁটিয়ে থাকত, আজ তাঁদেরই রাস্তায় দড়ি বেঁধে ঘুরতে দেখে সাধারণ মানুষের অনেকেই একে উত্তরপ্রদেশের ‘যোগী রাজের’ এনকাউন্টার ও বুলডোজার সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা করছেন। আমজনতার একাংশ পুলিশের এই ‘সিংহ’ রূপ দেখে খুশি হলেও, আইনের চোখে একজন বিচারাধীন বন্দির এভাবে প্রকাশ্য অবমাননা কতটা গ্রহণযোগ্য, ৫ জুনের শুনানিতে হাইকোর্ট কী রায় দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





