রাজ্যের খবর

জাহাঙ্গির বেপাত্তা হতেই মধ্যরাতে পুলিশের হানা! ফলতায় খাঁচায় বন্দি তৃণমূলের দাপুটে প্রধান ইস্রাফিল চকদার

মহিলাদের শ্লীলতাহানি থেকে বুথ দখল! ফলতায় দেবাংশুর রেকর্ড জয়ের পর এবার শুরু হলো আসল ‘খেলা’

গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই সমীকরণ একেবারে ওলটপালট হয়ে গেছে। গত ২১ মে ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় শুরু হয়েছে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়। এবার পুলিশের জালে জড়ালেন ফলতার ‘ডন’ তথা বেপাত্তা তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নেতা ইস্রাফিল চকদার। বুধবার গভীর রাতে ফলতা থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাসিমনগর এলাকায় অভিযান চালায় এবং এই দাপুটে তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করে। ধৃত ইস্রাফিলের বিরুদ্ধে এলাকায় তোলাবাজি, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, মারধর এবং মহিলাদের শ্লীলতাহানির মতো একাধিক গুরুতর ও জামিন অযোগ্য ধারা রয়েছে।

বুথ দখল ও ছাপ্পা ভোটের মাশুল, বাতিল হয়েছিল নির্বাচন

ধৃত ইস্রাফিল চকদার আসলে বঙ্গনগর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯ এপ্রিল ফলতায় প্রথম দফায় ভোটগ্রহণের পর বঙ্গনগর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাসিমনগর এলাকায় পরপর দু’দিন ধরে কাতারে কাতারে স্থানীয় মহিলারা লাঠি-ঝাঁটা নিয়ে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। আন্দোলনকারী মহিলাদের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, এই ইস্রাফিল চকদারের নেতৃত্বেই তৃণমূল আশ্রিত একঝাঁক দুষ্কৃতী সাধারণ মানুষকে ভোটদানে বাধা দিয়েছে, বাড়ি থেকে বেরোতে দেয়নি এবং দেদার ছাপ্পা ভোট মেরেছে।

হাসিমনগরের এই গণবিক্ষোভ ও পুনর্নির্বাচনের দাবির পর নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ করে ফলতার ভোট পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করে দেয়। পরবর্তীতে গত ২১ মে গোটা ফলতা বিধানসভাতেই নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা লক্ষাধিক ভোটের ঐতিহাসিক ব্যবধানে জয়লাভ করেন। অন্যদিকে, ভোটের ময়দান থেকে আচমকা সরে দাঁড়ানো তৃণমূলের জাহাঙ্গির খান চতুর্থ স্থানে শেষ করেন এবং তাঁর জামানত পর্যন্ত জব্দ হয়।

নাসিরের পর ইস্রাফিল, এবার নজরে ফলতার ‘পুষ্পা’

ইস্রাফিলের গ্রেফতারির ঠিক কয়েক দিন আগেই জাহাঙ্গির খানের আরেক ঘনিষ্ঠ আইএনটিটিইউসি (INTTUIUC) নেতা নাসির শেখকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। ফলতা স্পেশাল ইকোনমিক জোন বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারখানার শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করা এবং মোটা টাকা তোলা না দিলে বেআইনিভাবে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ছিল নাসিরের বিরুদ্ধে।

একের পর এক ঘনিষ্ঠ নেতার খাঁচাবন্দি হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই বড় প্রশ্ন, এবার কি তবে পুলিশের আসল নজরে ফলতার ‘পুষ্পা’ ওরফে জাহাঙ্গির খান? ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট জাহাঙ্গিরের আইনি রক্ষাকবচ তুলে নিয়ে তাঁকে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের দাবি, গ্রেফতারির আশঙ্কায় ভোটের আগের দিন থেকেই সম্পূর্ণ ‘নিখোঁজ’ বা বেপাত্তা রয়েছেন তিনি। ধৃত পঞ্চায়েত প্রধান ইস্রাফিলকে বৃহস্পতিবার ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম (ACJM) আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

Related Articles