বাড়ি বাড়ি গিয়ে পদ ছাড়ার ঘোষণা, চোখের জলে দল ছাড়লেন তৃণমূল কাউন্সিলর
“আর তৃণমূল করব না, মানুষই শেষ কথা!”, দুবরাজপুরে যুব সভাপতি তথা কাউন্সিলরের ইস্তফায় চরম শোরগোল
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মহাসুনামি এবার আছড়ে পড়ল অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের জেলা বীরভূমে। রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই জেলায় জেলায় তৃণমূলের পুরবোর্ডগুলিতে যে ভাঙন শুরু হয়েছে, তা এবার গ্রাস করল দুবরাজপুর পুরসভাকেও। মঙ্গলবার সকালে এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল দুবরাজপুরের বাসিন্দারা। চোখে জল নিয়ে, গলা বুজে আসা কান্নার মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার বড় ঘোষণা করলেন দুবরাজপুর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে কাউন্সিলর তথা শহর যুব তৃণমূলের সভাপতি সাগর কুন্ডু। তিনি শুধু পুরসভার পদই ছাড়েননি, ঘাসফুল শিবিরের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন।
সাতসকালে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে ঘোষণা: “আমি এখন প্রাক্তন”
মঙ্গলবার সাতসকালে দুবরাজপুরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের অলিগলিতে নিজের ভোটার ও সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যান সাগরবাবু। সমাজমাধ্যমে ইস্তফার কথা জানানোর পর, এদিন সশরীরে গিয়ে তিনি সবাইকে জানিয়ে দেন, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর আর কোনো সম্পর্ক নেই। এখন থেকে তিনি আর কাউন্সিলর নন, বরং এই ওয়ার্ডের ‘প্রাক্তন পুরপিতা’।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবেগতাড়িত সাগর কুন্ডু বলেন, “কাউন্সিলর পদের পাশাপাশি শহর যুব তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিচ্ছি। এমন দিন দেখতে হবে তা হয়তো কোনও দিন ভাবিনি। তবে মানুষের রায়ই শেষ কথা। দল ও পদ ছাড়লেও আমি সাধারণ মানুষের পাশেই থাকব।” দল ছাড়ার পেছনে রাজ্যে ক্ষমতা বদলের কোনও চাপ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন অবশ্য সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন এই যুবনেতা।
তৃণমূলের পাল্টা হুঁশিয়ারি, খোঁচা বিজেপির
সাগরের এই ‘আকস্মিক ইস্তফা’ নিয়ে এখনই বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক অনুপকুমার সাহা। তিনি স্পষ্ট জানান, সরকারিভাবে ইস্তফাপত্র জমা পড়লে তবেই দল পদক্ষেপ করবে। তবে সুর চড়িয়ে বিধায়ক বলেন, “দুবরাজপুর পুরসভায় যে সমস্ত কাজ হয়েছে, তার নিরিখে প্রত্যেক কাউন্সিলরের দিকে আমাদের কড়া নজর রয়েছে। কেউ কোথাও কোনো দুর্নীতি করে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে, কাউকে রেয়াত করা হবে না।”
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে তীব্র খোঁচা দিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। পদ্ম শিবিরের দাবি, “রাজ্যে তৃণমূল দলটাই এবার উঠে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ডুবন্ত নৌকায় কে-ই বা থাকতে চায়? তাই এই দলে থেকে কে কী করবেন ভেবেই বুদ্ধিমানের মতো পদ ছাড়ছেন কাউন্সিলরেরা।” ছাব্বিশের পালাবদলের পর বীরভূমের মাটিতে কোনো কাউন্সিলরের এভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় দল ছাড়ার ঘটনা জেলা রাজনীতিতে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।





