রাজ্যের খবর

হুগলিতে অর্জুনের মাস্টারস্ট্রোক! এক ধাক্কায় খুলছে ৪টি বন্ধ জুটমিল, খুশিতে নাচছেন হাজার হাজার শ্রমিক

অর্জুন সিংয়ের ম্যারাথন বৈঠক ও মালিকপক্ষের সবুজ সংকেত, হুগলিতে ফিরছে ‘সোনার দিন’

Truth of Bengal: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই চটশিল্পে গতি আনতে অল-আউট অ্যাকশনে নেমেছিলেন নতুন শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। জুটমিল মালিকদের সঙ্গে তাঁর দফায় দফায় করা হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের জেরেই এই অভাবনীয় সাফল্য এসেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। খুব শীঘ্রই হুগলির ভাগ্য বদলে দিয়ে একসঙ্গে খুলতে চলেছে চারটি বড় কারখানা।

এই প্রসঙ্গে শ্রীরামপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, “আমাদের নতুন সরকার জুটশিল্পকে এক বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। হুগলির চারটি জুটমিল খুললে হাজার হাজার শ্রমিকের ঘরে লক্ষ্মী ফিরবে। তবে আমরা শুধু মিল খোলা নয়, মালিকপক্ষের কাছে শ্রমিক আবাসন ও মহল্লাগুলিরও সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের অনুরোধ জানিয়েছি। কলকারখানা মসৃণভাবে চালাতে সরকার সবরকম সাহায্য করবে।”

গোন্দলপাড়া থেকে হেস্টিংস, কত হাজার শ্রমিকের মুখে ফুটতে চলেছে চওড়া হাসি?

বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী গোন্দলপাড়া জুটমিল (Gondalpara Jute Mill)। সেখানে কাজ হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছিলেন প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক। বর্তমানে মিলটির ভেতরে রক্ষণাবেক্ষণের (Maintenance) কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ম্যানেজার শুভেন্দু পাল। অন্যদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তালা ঝুলেছিল শ্রীরামপুরের ইন্ডিয়া জুটমিলে, যেখানে কর্মরত ছিলেন প্রায় ২ হাজার কর্মী। এছাড়া, গত জুন মাসের শুরুতেই বন্ধ হয়ে যায় রিষড়ার হেস্টিংস জুটমিল (Hastings Jute Mill), যার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আরও ৪ হাজারেরও বেশি চটকল কর্মী। ওয়েলিংটন জুটমিল-সহ এই সবকটি কারখানার শ্রমিকরাই এখন কাজে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

“পূর্বতন তৃণমূল সরকারের উদাসীনতাই ডেকে এনেছিল সর্বনাশ!”, বিস্ফোরক ক্ষোভ শ্রমিকদের

কারখানা খোলার খবরে শ্রমিক পরিবারগুলিতে উৎসবের আমেজ থাকলেও, ক্ষোভের আগুন পুরোপুরি নেভেনি। হেস্টিংস জুটমিলের শ্রমিকদের স্পষ্ট অভিযোগ, পূর্বতন তৃণমূল (TMC) সরকারের চরম উদাসীনতা এবং ভুল নীতির কারণেই একের পর এক কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বাংলায়। গোন্দলপাড়ার শ্রমিক প্রমোদ মণ্ডল বলেন, “আগে জুটমিল বছরে ছয় থেকে সাত মাস বন্ধ থাকাই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আশা করি নতুন সরকারের জুটমিল নীতি সেই অন্ধকার দিন বদলে দেবে। এই সরকারের ওপর আমাদের পুরো ভরসা আছে।” এখন দেখার, নতুন শ্রমমন্ত্রীর এই তৎপরতা হুগলির বন্ধ চটকল শ্রমিকদের মুখে পাকাপাকিভাবে হাসি ধরে রাখতে পারে কি না!

Related Articles