রাহুল চট্টোপাধ্যায়: টেকনো মেইন সল্টলেক এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপন করল তাদের রজত জয়ন্তী। টেকনো মেইন সল্টলেক (এম এ কে এ ইউ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ) নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে এক জমকালো সাংস্কৃতিক ও স্মরণীয় সন্ধ্যার আয়োজনের মাধ্যমে তাদের ঐতিহাসিক রজত জয়ন্তী (২৫ বছর পূর্তি) উদযাপন করল। এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, আমন্ত্রিত অতিথি, বর্তমান শিক্ষার্থী, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন। ওই বিশেষ সন্ধ্যাটি ২৫ বছরের শিক্ষাগত উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং যুগান্তকারী শিক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে,যা ভবিষ্যৎ নেতা ও পেশাজীবীদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের অসাধারণ যাত্রাপথকে প্রতিফলিত করে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (কলকাতা)-এর প্রাক্তন অধিকর্তা পদ্মশ্রী ড.সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গৌতম রায়চৌধুরী,টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সহ-অধ্যক্ষ অধ্যাপক মানসী রায়চৌধুরী প্রমূখ।রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠান উদযাপনের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও স্বাগত ভাষণের মধ্য দিয়ে। এরপর টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সহ-অধ্যক্ষ অধ্যাপক মানসী রায়চৌধুরী বিশেষ বক্তব্য রাখেন। এই সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট অতিথিদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন এবং সোমলতা আচার্য চৌধুরী ও সৌম্যজিৎ-সৌরেন্দ্র জুটির সুমধুর সঙ্গীত পরিবেশনা। উদযাপনে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে সৌম্যজিৎ-সৌরেন্দ্র জুটি। টেকনো মেইন সল্টলেকের ২৫ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করেন।এই শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের ২৫ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক স্মরণীয় পরিবেশনা উপস্থাপিত করেন।
রজত জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ঐতিহ্যকে স্মরণ করা হয় এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধন ও শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের প্রতি প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত টেকনো মেইন সল্টলেক বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম সেরা এবং অত্যন্ত সমাদৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত। একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষাঙ্গন হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ১৫টিরও বেশি স্নাতক এবং বিভিন্ন ধরনের স্নাতকোত্তর পাঠক্রম পরিচালনা করছে। কলকাতার সল্টলেকে—যা পশ্চিমবঙ্গের ‘আইটি হাব’ হিসেবে পরিচিত—অবস্থিত টেকনো মেইন সারা দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে একটি অন্যতম প্রধান গন্তব্য। ডব্লিউ বি জে ই ই, জে ই ই মেন্স,জে ই এম এ টি,এম এ টি, টি এন জে ই ই-এর মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অধিকারীরা বছরের পর বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রেখে আসছেন। শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত উচ্চমানের শিক্ষা, অত্যাধুনিক গবেষণাগার ও পরিকাঠামো, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষণ-শিখন পদ্ধতি, শিল্পের চাহিদাকেন্দ্রিক সুদৃঢ় পাঠক্রম, অসাধারণ ল্যাবরেটরি সুবিধা এবং অন্যান্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার সুবাদে এই কলেজটি শিক্ষাক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে সর্বদা সচেষ্ট থাকে। এই অভিজাত গোষ্ঠীর অংশ হওয়া সৌভাগ্যের কারণ ।এটি এমন একটি স্থান যেখানে আবেগ ও সৃজনশীলতা হাত ধরাধরি করে চলে এবং এক গৌরবোজ্জ্বল ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা বিধান করে। টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গৌতম রায়চৌধুরীর স্বপ্ন ছিল এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা—যেখানে ঐতিহ্যের পাশাপাশি উদ্ভাবনও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, এবং যেখানে প্রযুক্তি—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে বিজ্ঞানের নবতম দিগন্ত পর্যন্ত—মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকে, মানুষ প্রযুক্তির সেবায় নয়। ওই অনুষ্ঠানে টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গৌতম রায় চৌধুরী বলেন, তাঁরা সব সময় দরিদ্র মেধাবী পড়ুয়াদের পাশে থেকে এসেছেন এবং বহু দরিদ্র ছাত্রছাত্রী তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে সফলভাবে শিক্ষা লাভ করে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এখন যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।
টিএমএসএল -কে যা অনন্য করে তোলে, তা হলো সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে তাদের অবিচল অঙ্গীকার—যার মাধ্যমে অত্যাধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা হয়ে ওঠে সকলের জন্য সহজলভ্য ও অর্থবহ। টেকনো মেইন সল্ট লেকের ২৫ বছরের এই পথচলা কেবল একটি মাইলফলকই নয়—এটি উদ্দেশ্য-চালিত শিক্ষার অসীম শক্তির এক জীবন্ত প্রমাণ।
টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ হলো পূর্ব ভারতের বৃহত্তম এবং সমগ্র দেশের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি শিক্ষা গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর অধীনে রয়েছে অসংখ্য নথিভুক্ত শিক্ষার্থী, ৫০০০ শিক্ষক ও কর্মী, ২১টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ১২টি বিজনেস স্কুল, ১৮টি পাবলিক স্কুল, ৬টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪০টি আইটিআই স্কুল এবং ১০০টিরও বেশি অত্যাধুনিক ক্যাম্পাস।
এই গোষ্ঠীর উদ্যোগগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশে ‘মনসিজ’, ‘টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল’, পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন উদ্যোগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক কর্মসূচি। এই গোষ্ঠীই পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়—’টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি’—প্রতিষ্ঠা করেন।




