দেশ

বিজেপি-কংগ্রেসকে টেক্কা! এবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমর্থনে সরব মহুয়া-শশী

এই মঞ্চটি আসলে দেশের যুবসমাজের স্বাধীন মতপ্রকাশের একটি জায়গা

Truth of Bengal: চলতি সপ্তাহের দেশের সবচেয়ে চর্চিত নাম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। খাতায়-কলমে কোনও রাজনৈতিক দল না হলেও জনপ্রিয়তার দৌড়ে দেশের তাবড় রাজনৈতিক দলগুলিকে পিছনে ফেলে দিয়েছে এই প্রতীকী মঞ্চ। এবার এই ‘পার্টি’র সমর্থনে সরব হলেন লোকসভার দুই বিরোধী সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং শশী থারুর। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, এই মঞ্চটি আসলে দেশের যুবসমাজের স্বাধীন মতপ্রকাশের একটি জায়গা। তাই ‘ককরোচ’দের বাকস্বাধীনতায় কোনওভাবেই লাগাম পরানো উচিত নয়।

দেশের প্রধান বিচারপতির একটি বিশেষ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতীকী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল এই ককরোচ জনতা পার্টি। গত বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যার বিচারে বিজেপি এবং কংগ্রেসের মতো প্রতিষ্ঠিত দলকে টপকে যায় তারা। এর পরেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক সমাজমাধ্যমে খোঁচা দিয়ে লেখেন, বিজেপি নিজেদের বিশ্বের বৃহত্তম দল বলে দাবি করলেও, তাদের টপকে যেতে ককরোচ জনতা পার্টির মাত্র চারদিন সময় লেগেছে। এই পোস্টের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার) থেকে উধাও হয়ে যায় দলটির অফিসিয়াল হ্যান্ডেল।

এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র লেখেন, বর্তমান সরকার দেশের যুবসমাজকে এতটাই ভয় পায় যে একটা অনলাইন আন্দোলনকেও সহ্য করতে পারছে না। যুবদের এই দশা হলে বিরোধী দলগুলোর কাজটা কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়। প্রসঙ্গত, মহুয়া নিজেও এই ভার্চুয়াল দলটিকে ফলো করেন। একই সুরে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও বলেন, ককরোচ জনতা পার্টির এই বিপুল জনপ্রিয়তাই প্রমাণ করে দেশের যুবসমাজ কতটা হতাশ। তাদের এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়াটা একটি বড় বিপর্যয়। সিজেপির অ্যাকাউন্টটি সচল রাখতে দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশেই সিজেপির এই এক্স অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা আইবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই অ্যাকাউন্টটি জাতীয় সুরক্ষার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ। তাঁর দাবি, এই অ্যাকাউন্ট থেকে কোনও উসকানিমূলক বা আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়নি, কেবল কিছু সামাজিক ইস্যু নিয়ে পোস্ট করা হয়েছে। তবে কেন তড়িঘড়ি এই প্ল্যাটফর্মের পথ রুদ্ধ করা হলো, তার সুনির্দিষ্ট কোনও জবাব এখনও মেলেনি।

Related Articles