রাজ্যের খবর

মুম্বইয়ে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না! পুলিশের জালে অরূপ ঘনিষ্ঠ শিবপুরের তৃণমূল নেতা

বিজেপি নেতার বাড়িতে দেদার বোমাবাজি ও গুলি! ক্ষমতার দম্ভ খতম হতেই এবার শ্রীঘরে হাওড়ার ‘ডন’ শামিম আহমেদ!

Truth of Bengal: গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই হাওড়া জুড়ে সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের রাজত্বে। গত ৭ মে শিবপুরের চওড়া বস্তি এলাকায় বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার হাওড়া জেলা সভাপতি সিকান্দার খানের বাড়িতে ভরসন্ধ্যায় তাণ্ডব চালানো হয়। মুড়ি-মুড়কির মতো বোমাবাজি ও গুলি চালনার ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল গোটা এলাকা। এই হিংসাত্মক ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এর আগে ৪ জনকে গ্রেফতার করলেও, ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড তথা হাওড়া পুরসভার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি শামিম আহমেদ ওরফে বড়ে বেপাত্তা ছিল।

তার খোঁজে শিবপুর থানা ও হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা যখন পৈলানের ধাঁচে তার শিবপুরের ডেরায় হানা দেন, তখন তাজ্জব বনে যান দুঁদে পুলিশ কর্তারা। বাইরে থেকে বাড়িটি অত্যন্ত সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মনে হলেও, তার বেসমেন্টে বা মাটির নিচে তৈরি সুড়ঙ্গের অন্দরে সাজানো ছিল অগাধ প্রতিপত্তি, যা কোনও বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদের চেয়ে কম নয়। এই গোপন সাম্রাজ্যের ভিডিও সমাজমাধ্যমে আসতেই তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।

এনআইএ-র খাতায় নাম, ট্র্যাকিং এড়াতে মুম্বইয়ে ডেরা

পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানের পরই বেগতিক বুঝে রাজ্য ছেড়ে মায়ানগরী মুম্বইয়ে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিল বরে ও তার কয়েকজন শাগরেদ। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে বৃহস্পতিবার রাতে মুম্বইয়ের এক গোপন ডেরা থেকে শামিম আহমেদ ও তার সঙ্গীদের হাতেনাতে পাকড়াও করে ট্রানজিট রিমান্ডে বাংলায় নিয়ে আসছে হাওড়া পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বরের অপরাধের খতিয়ান অত্যন্ত দীর্ঘ। এর আগেও অস্ত্র আইন, তোলাবাজি ও এলাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর অভিযোগে একাধিকবার জেল খেটেছে সে। এমনকি তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ (NIA)-র কাছেও ডায়েরি রয়েছে এবং এর আগে এনআইএ-র হাতে সে গ্রেফতারও হয়েছিল। সামান্য একজন ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট হয়ে বরে কীভাবে এত বিপুল সম্পত্তি ও মাটির তলায় বিলাসবহুল সাম্রাজ্য গড়ে তুলল, এবার তার উৎসের সন্ধানে আয়কর দফতর ও ইডি-কে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নতুন প্রশাসন।

Related Articles