চাকরি দেওয়ার নামে ২০ লক্ষ টাকার জালিয়াতি! কাঠগড়ায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ
১৫ জন যুবকের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি, টাকা ফেরত চাইতেই মিলল হুমকি? নরেন্দ্রনাথের কীর্তি ফাঁস
Truth of Bengal: পাণ্ডবেশ্বর থানার জোয়ালভাঙা গ্রামের বাসিন্দা খগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তোলপাড় পশ্চিম বর্ধমান জেলা। খগেন্দ্রনাথের দাবি, জমি সংক্রান্ত একটি ঝামেলার সূত্র ধরেই বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছিল। সেই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে বিধায়ক তাঁকে জানান যে, অর্থের বিনিময়ে তিনি এলাকার ১৫ জন যুবককে চাকরি করে দিতে পারেন। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি যুবকের মাথা পিছু ২ লক্ষ টাকা অর্থাৎ মোট ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। এলাকার গরিব ছেলেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ধাপে ধাপে ধার-দেনা করে ২০ লক্ষ টাকা জোগাড় করে খগেন্দ্রনাথ সেই টাকা সরাসরি বিধায়কের হাতে তুলে দেন।
কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও একজন যুবকেরও চাকরি হয়নি। প্রতারিত যুবকদের পরিবার টাকা ফেরত চাইতে গেলে বিধায়ক নানা অজুহাত দিয়ে তাঁদের ফিরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। খগেন্দ্রনাথ বলেন, “চাকরি তো হলই না, উল্টে টাকা ফেরত না পাওয়ায় যুবক ও তাঁদের পরিবার চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে। বাধ্য হয়েই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।” যদিও সোশাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি দিয়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তাঁর পাল্টা দাবি, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। আমার কাছে যারা এসেছে কেউ খালি হাতে ফেরেনি।”
দুর্গাপুরে মাঝরাতে পুলিশের হানা, গ্রেফতার ঘাসফুল নেতা
এদিকে শিল্পাঞ্চলে যখন বিধায়কের দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড়, ঠিক তখনই দুর্গাপুরের ফরিদপুর লাউদোহা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের (INTTUC) ব্লক সভাপতি শেখ ওয়াসুল। পুলিশ সূত্রে খবর, চাকরির নামে আর্থিক প্রতারণা ছাড়াও ছাব্বিশের নির্বাচনে ভোটারদের ভয় দেখানো ও এলাকায় সন্ত্রাস তৈরির একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল এই নেতার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ফরিদপুরে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। শুক্রবার সকালে ধৃত এই নেতাকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে জামিনের আর্জি খারিজ হয়ে যায়। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে শেখ ওয়াসুলের অবশ্য দাবি, “আমি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দল করছি, কারও সঙ্গে কোনও দুর্ব্যবহার করিনি।” রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় রাজদণ্ড হাতবদল হতেই শিল্পাঞ্চলের বালি-কয়লা ও চাকরি সিন্ডিকেটের চাঁইদের শিকড় উপড়ে ফেলতে কোমর বেঁধে নেমেছে নতুন প্রশাসন।


