কলকাতা

সরকারি কর্মীদের মুখে লাগাম! মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগে কড়া নিষেধাজ্ঞা নবান্নের

মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের সই করা এই নির্দেশিকা ১৯ মে জারি করা হয়।

জয় চক্রবর্তী: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে নবান্ন। এবার সরকারি কর্মীদের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ, মতপ্রকাশ এবং লেখালেখির উপর কার্যত কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল রাজ্য সরকার। অল ইন্ডিয়া সার্ভিস, পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস (WBCS), পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস (WBPS)-সহ সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মীদের জন্য জারি হল একাধিক কড়া বিধিনিষেধ।

মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের সই করা এই নির্দেশিকা ১৯ মে জারি করা হয়। পরদিন পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস (P&AR) দফতরের তরফে তা সমস্ত সরকারি দফতর, জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের কাছে পাঠিয়ে অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারি কোনও বেসরকারি বা স্পনসর্ড মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অনুষ্ঠান হলেও যদি তার প্রযোজনা কোনও বেসরকারি সংস্থা করে, তাহলেও অংশগ্রহণের আগে সরকারের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক।শুধু তাই নয়, প্রশাসনিক নথি বা তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস রুখতেও কড়া অবস্থান নিয়েছে নবান্ন। সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনও তথ্য, ফাইল বা নথি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংবাদমাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, কোনও সরকারি কর্মী সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন বা অন্য কোনও প্রকাশনায় লেখালেখি, সম্পাদনা বা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। এমনকি রেডিও, পডকাস্ট কিংবা পাঠক চিঠির ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি নীতি বা সিদ্ধান্তের সমালোচনা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি, পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনও সরকারি কর্মী প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে পারবেন না। সোশ্যাল মিডিয়া, টেলিভিশন বা সংবাদপত্র, কোনও প্ল্যাটফর্মেই সরকারের সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না।

এছাড়াও এমন কোনও মন্তব্য বা প্রকাশনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক বা অন্য কোনও রাজ্য ও বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সরকারি তথ্য ফাঁস রোধ এবং প্রশাসনের ভিতরে বিরোধী মনোভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই কড়া পদক্ষেপ করেছে নতুন সরকার।

Related Articles