রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় কাটছাঁট, তুলে নেওয়া হল প্রায় ১১০০ জনের নিরাপত্তা
বাংলায় ক্ষমতা বদল হতেই নবান্নের স্বরাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জয় চক্রবর্তী: পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে নেতা মন্ত্রী ছাড়াও ব্লক স্তরের সামান্য নেতাও পেতেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা। নতুন ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারের আমলের প্রথম থেকেই এই ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে না সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই মতো স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে বেশ কিছু নেতা-নেত্রীর পাশ থেকে নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হল। রাজ্যে রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনিক কর্তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল করল রাজ্য সরকার।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এক ধাক্কায় প্রায় ১১০০ জনের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং নন-ক্যাটাগরাইজ নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তি। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এতদিন জেড ও ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাওয়া একাধিক নেতার নিরাপত্তাও সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শওকত মোল্লা এতদিন জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার থেকে তাঁর আর কোনও সরকারি নিরাপত্তা থাকবে না। একইভাবে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর-র ওয়াই প্লাস নিরাপত্তাও তুলে নেওয়া হয়েছে। ডায়মন্ডহারবার ব্লকের যুব সভাপতি গৌতম অধিকারী-র নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্যের তরফে যাঁদের ক্যাটাগরাইজ করে নিরাপত্তা দেওয়া হত, সেই তালিকা থেকে প্রায় ১৭৫ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় বিভিন্ন দফতরের একাধিক সচিবও রয়েছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলিতে নিরাপত্তা বহাল থাকছে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, কলকাতা পুলিশের পুলিশ কমিশনার এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা, এই কয়েকটি পদেই কেবল নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন জেলার এসপি ও সিপিদের সুপারিশে যাঁরা নন-ক্যাটাগরাইজ নিরাপত্তা পেতেন, তাঁদের মধ্য থেকেও ৯০০ জনের বেশি ব্যক্তির নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনভিত্তিক করতেই এই পদক্ষেপ। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।






