বিজেপি করায় কান ধরে ওঠবস, তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে কাঁকসা থানায় মহিলারা
তৃণমূলের দাপুটে নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি! কাঁকসা থানার সামনে আক্রান্ত মা-বোনেদের মহাবিক্ষোভ
সনাতন গড়াই, দুর্গাপুর: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিজেপি নেতা-কর্মীদের ওপর যে অকথ্য অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছিল, নতুন সরকার আসতেই সেই ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি এবার ফেটে পড়ল। কাঁকসার গোপালপুর উত্তর পাড়ার একঝাঁক বিজেপি মহিলা কর্মী সোমবার রাতে কাঁকসা থানায় হাজির হয়ে তৎকালীন শাসকদলের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন। পুরো ঘটনার পেছনে কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাধিপতি জয়জিৎ মন্ডল ও তৃণমূল নেতা রমেন মন্ডল যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আক্রান্তদের।
কান ধরে ওঠবস ও সাদা থানের হুমকি
কাঁকসার স্থানীয় বাসিন্দা রমা মল্লিক নামের এক বিজেপি মহিলা কর্মী কাঁকসা থানার সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “বিজেপি করাটাই ছিল আমাদের একমাত্র অপরাধ। একুশের ভোটের পর তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী আমাকে বাড়ি থেকে চুলে ধরে টেনে বের করে রাস্তায় কান ধরে ওঠবস করিয়েছিল। হুমকি দিয়েছিল, আর কোনওদিন বিজেপি করলে ফল ভাল হবে না।” অন্য এক মহিলা কর্মী মধুমিতা সরকার অভিযোগ করেন, “আমার শ্বশুরমশাই যখন খাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ এসে কলার ধরে টেনে বাইরে বের করে তাঁকে বেধড়ক মারা হয়। আমাদের বাড়ির বউদের সাদা থান পরিয়ে বিধবা করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।”
প্রাণের ভয়ে বন্ধ ছিল থানার দরজা
আক্রান্ত পরিবারগুলির দাবি, সেই সময় পরিস্থিতি এতটাই থমথমে এবং পুলিশ পূর্বতন সরকারের অধীনে থাকায় তাঁরা প্রাণের ভয়ে স্থানীয় থানায় কোনও ডায়েরি বা অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি। কিন্তু হৃদয়ে ক্ষোভ চেপে রেখেও তাঁরা দল পরিবর্তন করেননি। রাজ্যে নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এবং একুশের হিংসার ফাইল পুনরায় খোলার তোড়জোড় শুরু হতেই তাঁরা একত্রিত হয়ে কাঁকসা থানার দ্বারস্থ হয়েছেন এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন।
পাল্টা সাফাই তৃণমূলের
এই মেগা অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনায় দোষী তৃণমূল নেতাদের অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবি তুলেছে। অন্যদিকে, কোণঠাসা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, “যদি কেউ অতীতে অন্যায় করে থাকে তবে আইন অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। তবে বাংলায় নতুন সরকার আসার পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে অনেক নির্দোষ তৃণমূল কর্মীকেও পুরনো মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর চক্রান্ত চলছে।” নতুন জমানায় পুলিশ এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।






