কলকাতা

৮০ বিধায়কের সমর্থন সত্ত্বেও স্বীকৃতিতে ‘না’! বিধানসভার ঘরে তালা দেখে ক্ষুব্ধ শোভনদেব

বিরোধী দলনেতার ঘরে ঝুলছে মস্ত বড় তালা! বিধানসভার লবিতে বসেই কাজ সারলেন ক্ষুব্ধ শোভনদেব

Truth of Bengal: অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা গঠনের পর থেকেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের স্নায়ুযুদ্ধ তুঙ্গে। এবার সেই বিতর্কের পারদ চড়ল তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা তথা বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার সরকারি মর্যাদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে। গত ১৩ মে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর উদ্দেশে ৮০ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র-সহ শোভনদেবকে দলনেতা করার চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও মেলেনি সরকারি স্বীকৃতি।

চিঠির বদলে পাল্টা চিঠির সংঘাত

তৃণমূলের অভিযোগ, স্পিকার দফতরে না থাকায় চিঠিটি বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাসের কাছে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু সচিবালয় থেকে পাল্টা চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, যে বৈঠকে শোভনদেবকে দলনেতা বাছা হয়েছে, তার প্রস্তাবে ৮০ জন বিধায়কের সই করা আসল খসড়া পত্রটি জমা দিতে হবে। এই টালবাহানায় ক্ষুব্ধ বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব বলেন, “বিরোধী দলনেতা নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনও চিঠিপত্র আদান-প্রদান হয় না, সরাসরি সচিবালয় থেকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে নোংরা রাজনীতি করে আমাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।”

লবিতে বসেই কাজ, আরটিআই (RTI) অস্ত্র

সোমবার বিধানসভায় এসে নিজের জন্য বরাদ্দ বিরোধী দলনেতার ঘরটি তালাবন্ধ দেখেন শোভনদেববাবু। কোনও উপায় না দেখে দীর্ঘক্ষণ বিধানসভার লবিতে সোফায় বসেই নিজের জরুরি কাজকর্ম সারেন তিনি। এরপরই চরম পদক্ষেপ হিসেবে তথ্য জানার অধিকার আইনে (RTI) আবেদন ঠুকে দেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, “২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় যখন বিরোধী দলনেতা নিয়োগ হয়েছিল, তখন সচিবালয় ঠিক কোন নিয়ম অনুসরণ করেছিল, তার খতিয়ান দিক।”

২৯৪ আসন বিশিষ্ট বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে মাত্র ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সেখানে তৃণমূলের কাছে ৮০ জন বিধায়ক থাকার পরেও কেন এমন আচরণ, তা নিয়ে সরব হয়েছেন দলের মুখ্যসচেতক ফিরহাদ হাকিম এবং উপ-দলনেতা নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্র। বিধানসভার এই নজিরবিহীন জট কোন দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Related Articles