রাজ্যের খবর

ফলতায় চরম উত্তেজনা! গ্রেফতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির ঘনিষ্ঠ দাপুটে তৃণমূল নেতা

এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল

Truth of Bengal: পুনর্নির্বাচনের ঠিক দিনপাঁচেক আগে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। গ্রেপ্তার হলেন পুষ্পা খ্যাত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুল খান। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা এবং এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল। সেই মামলার তদন্তে নেমেই গত শুক্রবার গভীর রাতে ফলতা থানার পুলিশ সাইদুলের বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফলতার রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে এবং তার ফলাফল ঘোষণা হবে আগামী ২৪ মে। তবে এই ভোটের আগেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে মস্ত বড় ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করে এ রাজ্যে এখন ভারতীয় জনতা পার্টি নতুন সরকার গঠন করেছে। বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ডায়মন্ড হারবারে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর ফলতায় বিজেপির একটি কর্মীসভাতেও যোগ দেবেন তিনি। শুধু তাই নয়, আগামী ১৯ মে প্রচারের শেষ দিনে ফলতায় মুখ্যমন্ত্রীর একটি মেগা রোড শো করার কথা রয়েছে, যা ঘিরে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এই রাজনৈতিক ডামাডোল এবং পুলিশি তৎপরতার আবহেই দীর্ঘদিন পর শুক্রবার ফলতায় প্রকাশ্যে দেখা গেল ওই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে। সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি সরাসরি শ্রীরামপুরে নিজের পুরনো দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছান। গত ২৯ এপ্রিল এই অফিসে বসেই তিনি ভোটের রণকৌশল ঠিক করেছিলেন। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই অফিসটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে পদ্ম শিবিরের পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এতদিন পর নিজের সেই অফিসে এসে জাহাঙ্গির খান বিরোধীদের সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দেন।

দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা প্রসঙ্গে জাহাঙ্গির খানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান যে, রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়তেই প্রতিদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসন যেভাবে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই তিনি এতদিন প্রকাশ্যে আসেননি। পুলিশ তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে এনেছে— এমন দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান যে, তিনি নিজের বাড়িতেই ছিলেন। শুধুমাত্র প্রশাসনের তরফ থেকে হওয়া অত্যাচার এবং রাজনৈতিক অশান্তি এড়াতেই তিনি জনসমক্ষে আসেননি বলে দাবি করেছেন এই তৃণমূল নেতা।

Related Articles