ভোটপ্রচারে পদ্মশিবিরকে লাগাতার হুঁশিয়ারি! অভিষেকের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম থানায় দায়ের এফআইআর
তাঁর বক্তব্যের ভাষা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগেই সমালোচনা শুরু হয়েছিল, এবার তা গড়াল আইনি জটিলতায়।
Truth of Bengal: নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপের মাঝেই এবার আইনি বিপাকে জড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটপ্রচারের মঞ্চ থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্দেশে তাঁর একের পর এক চাঁছাছোলা মন্তব্য এবং হুঁশিয়ারির বিরুদ্ধে শেষমেশ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলো। তাঁর বক্তব্যের ভাষা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগেই সমালোচনা শুরু হয়েছিল, এবার তা গড়াল আইনি জটিলতায়।
সূত্র মারফত জানা গেছে যে, গত শুক্রবার রাতে কলকাতার বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার বিধাননগর পুলিশের কাছে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন মন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে সাইবার অপরাধের ধারায় মামলা রুজু করেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি ধারা জামিন অযোগ্য।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে প্রায় প্রতিটি জনসভা থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাখছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর বেশ কিছু বক্তব্য রাজনৈতিক শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে গত ২৭ এপ্রিলের একটি জনসভায় বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছিলেন যে, চার তারিখ রাত বারোটার পর কে তাদের বাঁচাতে আসে তা তিনি দেখে নেবেন। তিনি আরও যোগ করেছিলেন যে, এই জল্লাদদের কত ক্ষমতা আছে এবং দিল্লি থেকে কোন বাবা তাদের উদ্ধার করতে আসে, সেটাও তিনি দেখে নেবেন।
তৃণমূল নেতার এই বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেই বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। নিজের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন সভার বিতর্কিত বক্তব্যগুলোর ভিডিও ক্লিপিংসও থানার পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। এই এফআইআর দায়েরের খবর সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা তথা বর্তমানে বিজেপির বর্ষীয়ান বিধায়ক তাপস রায়। পুরো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দাবি তুলেছেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আজ রাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা উচিত।






