দেশ

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা, আংশিক ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ঘোষণা

দেশজুড়ে জ্বালানি সংরক্ষণের প্রচেষ্টা জোরদার করেছে ভারত।

Truth of Bengal: পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত খনিজ তেলের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির জেরে দেশজুড়ে জ্বালানি সংরক্ষণের প্রচেষ্টা জোরদার করেছে ভারত। এই আবহে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধন এবং তেল সাশ্রয়কারী পদক্ষেপের ঘোষণা করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ভরত পরাশর এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছেন। মূলত গত ১২ মে কেন্দ্রীয় পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি অফিস মেমোরেন্ডামের ওপর ভিত্তি করেই সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

The Pandemic Provides Answers To How The Supreme Court Can Be Taken Beyond New Delhi | Article-14

বিশ্বব্যাপী চলমান শক্তি সংকটের কথা মাথায় রেখে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রতিটি নাগরিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমাতে এবং জ্বালানি সাশ্রয় করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েই সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও দপ্তর করোনা মহামারীর দিনগুলির মতো ডিজিটাল কার্যপদ্ধতিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যার মধ্যে শীর্ষ আদালত অন্যতম। নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের সমস্ত বিবিধ বা মিসলেনিয়াস ডে-র শুনানি এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে ভিডিও কনফারেন্সিং বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এর পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন অবকাশকালীন বেঞ্চ বা অন্যান্য ছুটির দিনগুলিতে যে সমস্ত মামলা শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত থাকবে, সেগুলিও একইভাবে অনলাইনেই শোনা হবে। বিচারপ্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা বা বিঘ্ন না ঘটে, তার জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি বিভাগকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের লিঙ্ক শেয়ার করার এবং সামগ্রিক প্রযুক্তিগত সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Supreme Court of India vs SCOTUS: 2026 Test - Frontline

জ্বালানির অপচয় রুখতে এবং তেলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরাও এক অত্যন্ত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে সরকারি যাতায়াতের জন্য কারপুলিং বা গাড়ি ভাগাভাগি করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেভাবে আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে, তাতে দেশের সমস্ত সংস্থা, কর্পোরেট সেক্টর ও নাগরিকদের এই ধরণের বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার যে বার্তা কেন্দ্র দিচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন। আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি বিভাগের কর্মীদের জন্য হাইব্রিড বা আংশিক ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সুবিধাও অনুমোদন করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বিভাগের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ কর্মী সপ্তাহে দুই দিন বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ পাবেন। বাকি কর্মীরা আদালতের দৈনন্দিন কাজ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সশরীরে অফিসে উপস্থিত থাকবেন। এই উদ্দেশ্যে প্রতিটি বিভাগের রেজিস্ট্রারদের সাপ্তাহিক ডিউটি রস্টার তৈরি করার পাশাপাশি কর্মীদের কর্মক্ষমতা এবং বকেয়া কাজ ঠিক সময়ে শেষ হচ্ছে কিনা, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

A Quiet Constitutional Turn: Why these Seven Recent Supreme Court Judgements May Renew Public Faith - The Wire

তবে শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশিকায় এটিও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, বাড়ি থেকে কাজ করলেও জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো কর্মীকে যেকোনো মুহূর্তে অবিলম্বে অফিসে তলব করা যেতে পারে। এছাড়া যদি দেখা যায় যে এই ওয়ার্ক ফ্রম হোম ব্যবস্থার কারণে কোনো বিভাগের কাজের গতি কমছে বা স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে, তবে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রাররা প্রয়োজন অনুযায়ী এই নিয়মে বদল আনতে পারেন অথবা এই সুবিধা বাতিল করতে পারেন।

Related Articles