৫ বার এড়িয়ে অবশেষে সিজিও-তে রথীন! পুর নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে হাজিরা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীর
পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে নয়া মোড়! এবার সিজিও-র ম্যারাথন জেরার মুখে মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক
Truth of Bengal: বিধানসভা ভোট মিটতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির তৎপরতা তুঙ্গে। সুজিত বসুর গ্রেফতারির ঠিক কয়েকদিন পরেই এবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ইডি দপ্তরে পৌঁছন তিনি। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগে মোট ৫ বার তাঁকে তলব করা হলেও প্রতিবারই নির্বাচনী প্রচারের অজুহাতে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন এই তৃণমূল নেতা।
“কেন ডেকেছে জানি না”
এদিন ইডি দপ্তরে ঢোকার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রথীনবাবু বলেন, “আমাকে কেন ডেকেছে জানি না। ভিতরে গেলে তবেই জানতে পারব।” যদিও ইডি সূত্রের খবর, পুরসভাগুলিতে কর্মী নিয়োগের সময় যে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাতে রথীন ঘোষের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন নথি ও বয়ানের ভিত্তিতেই তাঁকে তলব করা হয়েছে।
সুজিত বসুর গ্রেফতারি ও রথীনের হাজিরা
উল্লেখ্য, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেই গত ১২ মে ম্যারাথন জেরার পর গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা সুজিত বসুকে। ঠিক একইভাবে সুজিতবাবুও আগে হাজিরা এড়িয়েছিলেন এবং হাইকোর্টের রক্ষাকবচ চেয়েও ব্যর্থ হয়েছিলেন। সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর রথীন ঘোষের হাজিরা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
তদন্তের গতিমুখ
সূত্রের খবর, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জাঁদরেল আধিকারিকরা রথীন ঘোষকে জেরা করা শুরু করবেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির হাত ছিল কি না, বা কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, মূলত এই বিষয়গুলোই খতিয়ে দেখা হবে। সুজিত বসুর পর রথীন ঘোষের কপালেও কি গ্রেফতারির গেরো রয়েছে? এই প্রশ্নই এখন বনবন করে ঘুরছে বাংলার রাজনীতির অলিন্দে।
রথীন ঘোষের এই হাজিরা নিয়ে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ শুরু করেছে বিজেপি শিবির। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করা হচ্ছে। এখন দেখার, দিনভর জেরার পর রথীনবাবু হাসিমুখে বাড়ি ফেরেন নাকি সিজিও-র অন্দরেই রাত কাটাতে হয় তাঁকে।






