কলকাতা

ভোটের মুখে ইডির সাঁড়াশি চাপ! মমতার দুই মন্ত্রীকে ফের তলব সিজিও-তে

সুজিত-রথীনের আর্জি খারিজ করে বড় পদক্ষেপ ইডির, হেভিওয়েট প্রার্থীদের ঘিরে ঘনীভূত রহস্য।

Truth of Bengal: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষকে ঘিরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে চলতি মাসেই এই নিয়ে তৃতীয়বার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার জন্য নোটিস পাঠানো হল তাঁদের। তবে ইডি সূত্রে খবর, এবারের তলব এড়ালে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু এবং খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ- দুজনকেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে যথাক্রমে বিধাননগর ও মধ্যমগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এর আগে দু’বারই ‘নির্বাচনী ব্যস্ততা’র অজুহাত দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়েছিলেন তাঁরা। ইডিকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন যাতে ১৫ মে-র পর তাঁদের ডাকা হয়। কিন্তু সেই আর্জি কানে তোলেনি কেন্দ্রীয় সংস্থা। উল্টে তাঁদের দ্রুত হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে জমি দখল মামলায় কলকাতার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারকেও তিন দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি, যা নিয়ে সরগরম ছিল রাজনীতি।

পুর নিয়োগ মামলার জল অনেক দূর গড়িয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে রথীন ঘোষের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। অন্যদিকে, সুজিত বসুর বাড়িতে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে একাধিকবার হানা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। দীর্ঘ বিরতির পর ঠিক ভোটের মুখে এভাবে দফায় দফায় তলব নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র অভিযোগ তুলেছে ঘাসফুল শিবির। সুজিত বসু প্রকাশ্যেই ইডির বিরুদ্ধে ‘হেনস্থা’র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ঠিক আগে দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীর ওপর ইডি-র এই সাঁড়াশির চাপ নির্বাচনী ময়দানে তৃণমূলকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ইডি-র অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তদন্ত প্রক্রিয়া এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে চলেছে। এখন দেখার, সুজিত ও রথীন এবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন না কি ফের ভোট প্রচারকেই অগ্রাধিকার দেন।

Related Articles