‘নো ভোট টু টিএমসি’র ম্যাজিক!, কুড়মি আবেগে জঙ্গলমহলে তছনছ ঘাসফুল
তৃণমূলের দুর্গে গেরুয়া ঝড়ের মাস্টারমাইন্ড কি অজিত মাহাতো?
Truth of Bengal: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে জঙ্গলমহল। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কুড়মি অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। জঙ্গলমহলের ২০টি কুড়মি-প্রধান আসনের মধ্যে ১৯টিতেই জয়ী বিজেপি। খড়গপুর গ্রামীণ ছাড়া প্রতিটি আসনেই কুড়মি আবেগে ভর করে পদ্ম ফোটাল গেরুয়া শিবির। আর এই বিশাল জয়ের নেপথ্যে ‘কিং মেকার’ হিসেবে উঠে এসেছেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের ভরাডুবির কারণ, আদিবাসী তালিকাভুক্ত হওয়ার দাবিতে রাজ্য সরকারের ‘কমেন্ট-জাস্টিফিকেশন’ না পাঠানো। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অবহেলা এবং গত সেপ্টেম্বর মাসে রেল অবরোধের সময় পুলিশের ভূমিকা জঙ্গলমহলের কুড়মি জনজাতির মনে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়েছিল। সেই ক্ষোভকেই ভোটবাক্সে রূপান্তরিত করতে অজিতপ্রসাদ মাহাতো ডাক দিয়েছিলেন ‘নো ভোট টু টিএমসি’। যে ডাক ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে খুব একটা কার্যকর না হলেও, ২০২৬-এ তা জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক সমীকরণ উল্টে দিল।
এই গেরুয়া ঝড়ে বড়সড় বিপর্যয় হয়েছে তৃণমূল মন্ত্রিসভার। ঝাড়গ্রামের বিনপুর থেকে হেরেছেন মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা এবং পুরুলিয়ার মানবাজার থেকে পরাস্ত হয়েছেন মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু। অন্যদিকে, কুড়মি সংগঠনের নেতা রাজেশ মাহাতো বিজেপির টিকিটে গোপীবল্লভপুর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। একই পথে হেঁটে পুরুলিয়ার জয়পুরে জয়ী হয়েছেন মূল মানতার ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাতো।
জঙ্গলমহলের চার জেলায় কুড়মি ভোটব্যাঙ্ক এখন বিজেপির বড় শক্তি। ঝাড়গ্রামে ৩২ শতাংশ, পুরুলিয়ায় ৩০ শতাংশ, এই ভোটই এদিন গেরুয়া শিবিরের সাফল্যের চাবিকাঠি। জয়ের পর অজিতপ্রসাদ মাহাতো সাফ জানিয়েছেন, “জনজাতির ওপর অত্যাচারের জবাব দিল জঙ্গলমহল।” এদিন বিভিন্ন এলাকায় গেরুয়া আবিরের সঙ্গে হলুদ আবির মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল, যা কুড়মি জনজাতির রাজনৈতিক উত্থানেরই প্রতীক।
বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের ‘তোষণ’ বনাম কুড়মিদের ‘অধিকারের লড়াই’, এই নির্বাচনে স্পষ্ট জয় পেয়েছে অধিকার। তৃণমূলের ‘তুরুপের তাস’ ব্যর্থ হয়েছে কুড়মি আবেগের জোয়ারে। জঙ্গলমহলের এই ফলাফল শুধু বিধানসভা নির্বাচনে নয়, আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতেও কুড়মি ভোটব্যাঙ্ক যে নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে, তা স্পষ্ট হয়ে গেল।






