খেলা

রেকর্ড ভেঙে ম্যাচ জিতিয়েও কৃতিত্ব নিলেন না কোহলি, জয়ের পর সামনে রাখলেন সতীর্থদেরই

স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই জয় কোনও একার কৃতিত্ব নয়— এটি পুরো দলের সম্মিলিত প্রয়াস।

Truth Of Bengal: গুজরাটের বিরুদ্ধে রানের চাপ সামলে দুরন্ত এক ইনিংসে দলকে জয় এনে দিলেন বিরাট কোহলি। ৪৪ বলে ৮১ রানের ইনিংসটি ছিল নিখুঁত পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং আক্রমণের মিশেল। কিন্তু ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে থেকেও নিজেকে সরিয়ে রাখলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই জয় কোনও একার কৃতিত্ব নয়— এটি পুরো দলের সম্মিলিত প্রয়াস।

ম্যাচের শুরুটা যদিও বেঙ্গালুরুর পক্ষে খুব স্বস্তির ছিল না। দ্রুত প্রথম উইকেট পড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতি সামলে দেন কোহলি ও দেবদত্ত পাডিক্কাল। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে তাঁরা ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আসেন। কোহলি ম্যাচ শেষে বিশেষভাবে পাডিক্কালের প্রশংসা করে বলেন, তাঁর নির্ভীক ব্যাটিংই আসলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাডিক্কাল কখনও অযথা রক্ষণাত্মক হন না, আবার পরিস্থিতি বুঝে আক্রমণও চালান— এই গুণটাই দলকে এগিয়ে দেয় বলে মনে করেন কোহলি।

নিজের ইনিংস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোহলি জানান, তিনি ইচ্ছে করেই শুরুতে স্থির ছিলেন যাতে অন্য প্রান্তে থাকা ব্যাটার স্বাধীনভাবে খেলতে পারেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল জুটি গড়ে তোলা এবং ম্যাচটিকে গভীরে নিয়ে যাওয়া। সেই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত সফল হয়। পাশাপাশি বোলারদের ভূমিকাও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন তিনি। এক সময় প্রতিপক্ষের স্কোর দেখে মনে হয়েছিল আরও বড় লক্ষ্য সামনে আসতে পারে, কিন্তু বোলাররা শেষ দিকে দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন দলকে।

চলতি মরশুমে বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং নিয়ে বিশেষভাবে সন্তুষ্ট কোহলি। তাঁর মতে, এইবার দল এমন পরিবেশ পেয়েছে যেখানে ব্যাটাররা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছেন। ২০০-র বেশি রান তাড়া করে জেতার মতো আত্মবিশ্বাসও তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, দলে এমন ক্রিকেটার রয়েছেন যাঁরা বড় শট খেলতে পারেন, আবার প্রয়োজন হলে ইনিংসও গড়ে তুলতে পারেন— এই ভারসাম্যই সাফল্যের চাবিকাঠি।

দলের শরীরী ভাষাতেও বদল এসেছে বলে মনে করেন কোহলি। আগের সাফল্য তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। প্রত্যেক ক্রিকেটার নিজের ভূমিকা বুঝে খেলছেন, আর সেটাই দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। টিম ডেভিড, রোমারিয়ো শেফার্ডদের মতো পাওয়ার হিটার যেমন আছেন, তেমনই ক্রুণাল পান্ডিয়াদের মতো অভিজ্ঞ ও কৌশলী ক্রিকেটারও রয়েছেন— এই মিশ্রণই বেঙ্গালুরুকে আলাদা মাত্রা দিচ্ছে।

এই ম্যাচটি ছিল মরশুমে বেঙ্গালুরুর শেষ ঘরের মাঠের লড়াই। তাই জয়টা আরও বিশেষ হয়ে ওঠে। কোহলি নিজেও স্বীকার করেছেন, এই মাঠে খেলতে সব সময়ই আলাদা আনন্দ পান। তাঁর আশা, প্লে-অফে উঠে আবার এই মাঠেই খেলার সুযোগ পাবে দল।

বিরাট কোহলির গড়া নজিরগুলি-

  • আইপিএলে ৩০০ ছক্কার গণ্ডি পার করা তৃতীয় ব্যাটার
  • একমাত্র ক্রিকেটার হিসাবে একটি দলের হয়ে ৩০০-র বেশি ছয়
  • ভারতের মাটিতে টি-২০-তে ১০ হাজার রানের মালিক
  • একটি দেশেই ১০ হাজার টি-২০ রান করা বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার

গুজরাটের বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৮টি চার ও ৪টি ছয়। তবে সংখ্যার বাইরে গিয়েও এই ইনিংসের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ এটি শুধু একটি জয় এনে দেয়নি, বরং দল হিসাবে বেঙ্গালুরুর আত্মবিশ্বাসকেও আরও মজবুত করেছে। আর সব কিছুর মাঝেও কোহলির বার্তা স্পষ্ট— ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলগত সাফল্যই সবচেয়ে বড়।

 

Related Articles