তিন বছরের জন্য স্থগিত হতে পারে এইচ-১বি ভিসা
তাই সাময়িকভাবে এই ভিসা বন্ধ রেখে পুরো কর্মসূচিটিকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মত তাঁদের।
Truth Of Bengal: আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয়-সহ বিদেশি নাগরিকদের জন্য বাড়ছে চাপ। তিন বছরের জন্য স্থগিত হতে পারে জনপ্রিয় এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে এই সংক্রান্ত একটি বিল পেশ করা হয়েছে। বিলটি পাশ হয়ে গেলে শুধু এইচ-১বি ভিসা স্থগিতই নয়, গোটা কর্মসূচিতেও আমূল সংস্কার আনার প্রস্তাব রয়েছে।
জানা গিয়েছে, রিপাবলিকানদের তরফে এই বিল উত্থাপন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার কারণে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ কমছে এবং ভারতীয়-সহ বিদেশি কর্মীরা সেই সুযোগ দখল করে নিচ্ছেন। তাই সাময়িকভাবে এই ভিসা বন্ধ রেখে পুরো কর্মসূচিটিকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মত তাঁদের। এই প্রস্তাবিত বিলের নাম রাখা হয়েছে ‘এন্ড এইচ-১বি ভিসা অ্যাবিউজ অ্যাক্ট অফ ২০২৬’। বিলটির মূল উদ্দেশ্য হল, এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থায় অপব্যবহার রুখে পুনরায় চালু করার আগে সেটিকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোয় আনা।
উল্লেখ্য, এইচ-১বি ভিসা মূলত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের আমেরিকায় কাজ করার সুযোগ দেয়। সাধারণত প্রথমে ৩ বছরের জন্য এই ভিসা দেওয়া হয় এবং পরে তা আরও ৩ বছর বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৬ বছর পর্যন্ত করা যায়। এই ভিসায় থাকাকালীন স্থায়ীভাবে আমেরিকায় বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সুযোগও পান কর্মীরা। ফলে প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), স্বাস্থ্য, গবেষণা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে কর্মরত ভারতীয়দের কাছে এইচ-১বি ভিসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রস্তাবিত বিলে একাধিক সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। বিলটি পাশ হয়ে গেলে বার্ষিক এইচ-১বি ভিসার কোটা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে যেখানে বছরে ৬৫,০০০ এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়, সেখানে তা কমিয়ে ২৫,০০০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও, লটারির মাধ্যমে ভিসা দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থার বদলে মজুরি-ভিত্তিক নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, বেশি বেতনে নিয়োগের প্রস্তাব থাকলে সেই আবেদনকারীরা অগ্রাধিকার পেতে পারেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে, এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বার্ষিক ন্যূনতম বেতন ২ লক্ষ ডলার নির্ধারণ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।এই বিল অনুযায়ী, কোনও বিদেশি নাগরিককে চাকরি দেওয়ার আগে নিয়োগকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁরা উপযুক্ত কোনও মার্কিন কর্মী খুঁজে পাননি। পাশাপাশি নিয়োগের সময় এটাও প্রমাণ করতে হবে যে, তাঁরা কোনও মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করেননি বা চাকরি থেকে সরাননি। এছাড়া এইচ-১বি কর্মীদের একাধিক চাকরিতে যুক্ত হওয়া বা একইসঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আনার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিল পাশ হয়ে গেলে আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয়-সহ বহু বিদেশি নাগরিক প্রবল অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে যাঁরা এইচ-১বি ভিসার উপর নির্ভর করে কর্মজীবন গড়ে তুলেছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াও বড় ধাক্কা খেতে পারে।


