নেশা বর্জনই কি দারিদ্র্য মুক্তির চাবিকাঠি? চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল
গবেষণায় দেখা গেছে ভারতের প্রায় ৭০ লক্ষ মধ্যবিত্ত পরিবারও তামাক সেবন বন্ধ করলে আর্থিক উন্নতির মুখ দেখবে।
Truth of Bengal: তামাক বর্জন করলে ভারতের ১১.৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ৫ লক্ষ পরিবার এক ধাপ উন্নত আর্থসামাজিক স্তরে পৌঁছাতে পারে। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল (বিএমজে) গ্লোবাল হেলথ-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে তামাক ত্যাগের ফলে ভারতের দরিদ্র পরিবার এবং গ্রামীণ অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্স, আইসিএমআর এবং এনআইসিপিআর-এর গবেষকরা এই যৌথ সমীক্ষায় জানিয়েছেন যে তামাক নিয়ন্ত্রণকে এখন দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলের অংশ করা জরুরি।
গবেষণায় দেখা গেছে ভারতের প্রায় ৭০ লক্ষ মধ্যবিত্ত পরিবারও তামাক সেবন বন্ধ করলে আর্থিক উন্নতির মুখ দেখবে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তামাকজনিত অসুস্থতা এবং অকাল মৃত্যুর কারণে বছরে ১ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে তামাকের পেছনে খরচ করা অর্থ আদতে খাদ্য এবং শিক্ষার মতো প্রয়োজনীয় ব্যয় থেকে পরিবারগুলোকে বঞ্চিত করছে। বিশ্বের মোট তামাক ব্যবহারকারীর প্রায় ৮০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে বাস করেন যেখানে আয়ের একটি বিশাল অংশ এই নেশার পেছনে ব্যয় হয়।
Approx 10% Indian families can improve their standard of living if they just give up tobacco and other addictions.
Source: ICMR and TISS Report
— News Arena India (@NewsArenaIndia) April 21, 2026
এই বিশ্লেষণটি ২০২২-২৩ সালের ভারতীয় জাতীয় নমুনা সমীক্ষার (এনএসএস) অধীনে ২ লক্ষ ৬১ হাজারেরও বেশি পরিবারের তথ্য যাচাই করে তৈরি করা হয়েছে। সমীক্ষায় বিড়ি, সিগারেট এবং গুটখার মতো পণ্যের সাপ্তাহিক ও মাসিক খরচের হিসাব নেওয়া হয়। দেখা গেছে যে দরিদ্রতম পরিবারগুলো তাদের মাথাপিছু মাসিক ব্যয়ের ৬.৪ শতাংশ এবং গ্রামীণ পরিবারগুলো ৬.৬ শতাংশ তামাকের পেছনে খরচ করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো পরিবারের আয় যত বাড়ে তামাকের পেছনে খরচের আনুপাতিক হার তত কমতে থাকে। তথ্য বলছে অতি দরিদ্ররা ৪.৪ শতাংশ এবং সবচেয়ে ধনীরা মাত্র ২ শতাংশ অর্থ তামাকজাত পণ্যে ব্যয় করেন।
গবেষণাপত্রের লেখকগণ উল্লেখ করেছেন যে তামাক বর্জন করলে গ্রামীণ ভারতের প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ এবং শহরাঞ্চলের ৩৫ লক্ষ পরিবার উচ্চতর আর্থিক শ্রেণিতে উন্নীত হতে সক্ষম হবে। বিশেষ করে অতি দরিদ্র পরিবারের ১২.৪ শতাংশ বা প্রায় ৫৬ লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হবে যা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সাহায্য করবে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই উন্নতির সম্ভাবনা আরও বেশি অর্থাৎ প্রায় ১৬.৮ শতাংশ পরিবার আর্থিক সচ্ছলতার দেখা পাবে। তবে গবেষকরা এটাও স্বীকার করেছেন যে তামাকের পেছনে বেঁচে যাওয়া অর্থ সবসময় প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় হবে কি না তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তাসত্ত্বেও কর বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতার মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ করলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।






