Truth of Bengal: বাংলাদেশের কূটনীতিতে এবার এক বড় চমক দিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। পদ্মাপারে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নাম চূড়ান্ত হলো পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অতি পরিচিত মুখ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর। বর্তমান রাষ্ট্রদূত প্রণয় বর্মার জায়গায় এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে চলেছেন তিনি। অন্যদিকে, প্রণয় বর্মাকে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ভারতের রাষ্ট্রদূত করে পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই দিল্লির এই বড় সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
আদতে গুজরাটি পরিবারের সন্তান হলেও দীনেশ ত্রিবেদী দীর্ঘ সময় বাংলায় রাজনীতি করেছেন এবং ঝরঝরে বাংলা বলতে পারেন। শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে যখন মহম্মদ ইউনুসের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছিল, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে তারেক রহমানের নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনে দীনেশের নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, একজন ‘বাংলাভাষী’ এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে ঢাকার দূত হিসেবে পাঠিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে কূটনৈতিক সেতুবন্ধনে জোর দিতে চাইছে মোদি সরকার।
দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক জীবন বর্ণময়। ইউপিএ জমানায় তৃণমূলের টিকিটে জিতে তিনি রেলমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। তবে ২০২১ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। ঝানু রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক এবং বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞানকেই এবার ঢাল করতে চাইছে বিদেশ মন্ত্রক। এর আগে বিহারের প্রাক্তন গভর্নর আরিফ মহম্মদ খানের নাম আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত দিল্লির ভোট পড়েছে অভিজ্ঞ দীনেশের পাল্লাতেই।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে একজন পেশাদার কূটনীতিকের চেয়ে একজন দক্ষ রাজনীতিক বেশি কার্যকর হতে পারেন। ঢাকার পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিল জট ছাড়াতে দীনেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করছে কেন্দ্র। একইসঙ্গে ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গের একজন প্রাক্তন হেভিওয়েট নেতাকে রাষ্ট্রদূতের মতো সম্মানজনক পদে বসিয়ে মোদি সরকার বাংলার ভোটারদের কাছেও এক বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।


