দেশ

ভোটের মুখে ‘অরাজনৈতিক’ মোদি! পয়লা বৈশাখে বাংলার জয়গান গেয়ে সম্প্রীতির বার্তা

মমতার গলায় বঞ্চনার সুর, আর মোদীর মুখে শুধুই শুভেচ্ছা! নববর্ষের দিনেও দুই মেরুতে রাজ্যের প্রধান দুই মুখ।

Truth of Bengal: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব পয়লা বৈশাখের পুণ্যলগ্নে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজনৈতিক সংঘাত আর নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহের মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছাবার্তায় ফুটে উঠল সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল ছবি। ভোট বা রাজনীতির কোনও প্রসঙ্গ উত্থাপন না করেই আগাগোড়া অরাজনৈতিক ঢঙে পশ্চিমবঙ্গের সুপ্রাচীন কৃষ্টি ও সংস্কৃতির জয়গান গাইলেন তিনি।

বাংলা এবং ইংরেজি- দুই ভাষাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নববর্ষের ভোরে সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি প্রার্থনা করেছেন, নতুন বছর যেন প্রত্যেকের জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি এবং সুস্বাস্থ্য নিয়ে আসে। মোদীর বার্তায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বাংলার কৃষ্টি। তাঁর কথায়, “ভারতের সভ্যতার চেতনাকে গড়ে তুলতে পশ্চিমবঙ্গের কালজয়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। নববর্ষের এই উৎসব সেই ঐতিহ্যকেই উদযাপন করার বিশেষ উপলক্ষ।” প্রধানমন্ত্রীর পোস্টে শেয়ার করা ছবিতেও ধরা পড়েছে বাঙালির চিরন্তন নববর্ষের ছোঁয়া, যা নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হলেও এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভিডিওবার্তায় ধরা পড়েছে ভিন্ন মেজাজ। নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে আক্রমণ শানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাপট থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া কিংবা এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গ- মুখ্যমন্ত্রীর কথায় বারবার উঠে এসেছে রাজনৈতিক প্রতিরোধের ডাক।

ভোটের ময়দানে মোদী-মমতার দ্বৈরথ নতুন কিছু নয়। তবে পয়লা বৈশাখের সকালে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় শুধুই ‘আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা’র আহ্বান ঝরে পড়ল, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে ধ্বনিত হলো প্রতিবাদের সুর। উৎসবের আবহে দুই শীর্ষ নেতার এই ভিন্নমুখী বার্তা বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Articles