“বাঘকে এবার ছাগল বানাব!”, অনুব্রতর খাসতালুকে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার হুমায়ুনের
ভাইরাল ভিডিয়ো নিয়ে এবার আইনি হুঁশিয়ারি! “সবটাই তৃণমূলের চক্রান্ত”, বিজেপি আঁতাত নিয়ে মুখ খুললেন হুমায়ুন কবীর।
সৌতিক চক্রবর্তী, বীরভূম: বীরভূমের মাটি থেকে শাসকদল তৃণমূলকে বেনজির ভাষায় আক্রমণ শানালেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। শুক্রবার জেলার দীঘলগ্রাম মেলার মাঠের জনসভা থেকে তাঁর নিশানায় ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। সভার শুরুতেই হুমায়ুনকে সংবর্ধনা জানান বোলপুর বিধানসভার প্রার্থী সৈয়দ সারওয়াদি ও জেলার অন্যান্য প্রার্থীরা।
অনুব্রত মণ্ডলকে নিয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পুরনো মন্তব্যের পালটা দিয়ে এদিন চরম হুঁশিয়ারি দেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, “ফিরহাদ হাকিম অনুব্রত মণ্ডলকে বাঘ বলেছেন, আমরা বলছি ৪ঠা মে-র পর তাকে ছাগল বানাব।” বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতির গড় হিসেবে পরিচিত এলাকায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুনের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এদিনের সভা থেকে জেলার একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, উন্নয়নের নামে বীরভূমে শুধুই অনিয়ম হয়েছে।
আলোচিত ‘ভিডিয়ো ফাঁস’ বিতর্ক নিয়েও এদিন দীঘলগ্রামের সভা থেকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা। তৃণমূলের দিকে চক্রান্তের আঙুল তুলে হুমায়ুন দাবি করেন, “যা ছড়ানো হয়েছে তার কিছু অংশ সত্যি হলেও বাকিটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেটাকে বিকৃত করা হয়েছে।” বিজেপির কোনও নেতার সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথোপকথনের প্রমাণ দেখাতে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি সাফ জানান, এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তিনি আইনি পথে হাঁটবেন।
নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বীরভূমের রাজনৈতিক পারদ এদিন কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন হুমায়ুন কবীর। একদিকে তৃণমূলের ‘গড়’ দখলের লড়াই, আর অন্যদিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ- সব মিলিয়ে বীরভূমের ভোটযুদ্ধ যে আরও তপ্ত হতে চলেছে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দীঘলগ্রামের সভাই তার প্রমাণ।





