সম্পাদকীয়

মার্কিন-ইরান যুদ্ধে কি মন্দা আসন্ন?

সাড়ে তিন হাজারের বেশি নৌসেনা ইউএসএস ত্রিপোলিতে এই অঞ্চলে পৌঁছেছে।

রাজাগোপাল ধর চক্রবর্ত্তী: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-ইরান যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যে উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধে পৌঁছেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে স্থল যুদ্ধে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাড়ে তিন হাজারের বেশি নৌসেনা ইউএসএস ত্রিপোলিতে এই অঞ্চলে পৌঁছেছে। আরও অতিরিক্ত দশ হাজার সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমানে পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় অভিযান এবং বৈশ্বিক জ্বালানির ওপর ইরানের দখল ভাঙতে সে দেশের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র, খার্গ দ্বীপ দখল করা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য দীর্ঘস্থায়ী দখলদারিত্বের পরিবর্তে ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে’ সামরিক অভিযান শেষ করা। হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ‘শত্রু’ জাহাজের জন্য বন্ধ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনরায় চালু করার জন্য ইরানকে ৬ এপ্রিলের আল্টিমেটাম জারি করেছেন। এই সময়সীমায় কূটনৈতিক সাফল্য না আসলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পুরো জাতীয় অবকাঠামোতে হামলা করবে। এইরকম হুমকিও দেওয়া আছে। ইরানের কৌশল অস্তিত্বের ‘চূড়ান্ত যুদ্ধ’।  ইরান মার্কিন আঞ্চলিক মিত্রদের (কুয়েত, জর্ডন, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী) ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে টার্গেট করা শুরু করেছে। ইরানি পার্লামেন্টের অভ্যন্তরে আওয়াজ উঠেছে, পরমাণু অস্ত্র চাই।

পাকিস্তান এবং ওমান

পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুদ্ধবিরতির জন্য দুর্বল মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা রয়েছে। হোয়াইট হাউস তেহরানে পনেরো দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ইরানি নেতৃত্ব এই প্রস্তাবকে ‘পরাজয়ের স্বীকারোক্তি’ বলে অভিহিত করেছে। বোঝাই যাচ্ছে, যুদ্ধ সহজে থামছে না। যুদ্ধ ইতিমধ্যেই এনেছে এক মারাত্মক অর্থনৈতিক অস্থিরতা। এই অস্থিরতার আঁচ আমরা সবাই পেয়েছি, এবার ঝাঁজ আসতে শুরু করেছে। কোথায় শেষ জানা না থাকলেও বিপদ ঘনীভূত কোনও সন্দেহ নেই। সত্তরের দশকে এইরকম যুদ্ধ এসে ওলটপালট করে দেয় বিশ্ব অর্থনীতি। এবার কী হচ্ছে আর কী হতে পারে তার সম্ভাব্য আলোচনায় এই নিবন্ধ।

সত্তর দশকের ঝঞ্ঝা

১৯৭৩ সালের অক্টোবরে আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধ বা ইয়োম কিপ্পুর যুদ্ধের সময় ওপেকের আরব সদস্যরা ইসরায়েলকে সমর্থন করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। বিশ্বব্যাপী তেলের দাম চারগুণ বাড়ে, রাতারাতি ব্যারেল প্রতি ৩ ডলার থেকে ১২ ডলারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, লাইসেন্স প্লেটের জোড়-বিজোড় অনুযায়ী গাড়ির গ্যাস কেনা যেত। এক দিকে স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অন্য দিকে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি মানুষকে গ্রাস করেছে। এই দুঃস্বপ্নের মিশ্রণ ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ নামে পরিচিত। দ্বিতীয় ধাক্কা আসে ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের সময়। শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের তেল উৎপাদন ধসে পড়ে। বিশ্বব্যাপী সরবরাহ প্রায় ৪ শতাংশ হ্রাস পায়, আতঙ্কের কারণে তেলের দাম আবার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৪০ ডলারে পৌঁছয়। তেল সঙ্কট যখন ঘটছিল, তখন ১৯৭২ এবং ১৯৭৪ সালের মধ্যে একটি নীরব খাদ্য সঙ্কট দেখা দেয়। ১৯৭২ সালে ব্যাপক ফসলের ব্যর্থতার পরে, সোভিয়েত ইউনিয়ন গোপনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভর্তুকি মূল্যে ১৫ মিলিয়ন টন গম কিনেছিল। এতে গমের বিশ্বব্যাপী রিজার্ভ কমে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ খাদ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়। যেহেতু সার প্রাকৃতিক গ্যাস (পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়, ১৯৭৩ সালের তেলের মূল্যবৃদ্ধি কৃষিকাজকে অবিশ্বাস্যভাবে ব্যয়বহুল করে তোলে। আফ্রিকার সাহেলে তীব্র খরা এবং ভারতে ব্যর্থ বর্ষার ফলে বিশ্বব্যাপী শস্যের ঘাটতি দেখা দেয়। ১৯৭০ সালে গমের আন্তর্জাতিক দাম ছিল প্রতি বুশেল (কৃষিপণ্য পরিমাপের একক) ১.৫০ ডলার, সেটা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৭৪ সালে চার থেকে ছয় ডলার হয়। ১৯৭০ দশকের সঙ্কট চাহিদা ও জোগানের ব্যাপক পরিবর্তনে, উত্তর সাগর ও আলাস্কায় তেল আবিষ্কৃত হলে ওপেকের একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙে। প্রযুক্তির পরিবর্তনে বাজারে আসে ছোট এবং আরও জ্বালানি দক্ষ গাড়ি।

২০২৬ যুদ্ধের ঝুঁকি

মার্চের শুরুতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলের ‘হার্ট অ্যাটাক’ শুরু হয়। ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ১১০-১২০ ডলারে ওঠা নামা করছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ইরান আগ্রাসনের পরের দিন, পয়লা মার্চ ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ছিল ৭৭ ডলার। এটাই ছিল প্রাক-উত্তেজনা বেসলাইন। উত্তেজনা ঘনীভূত হলে, ৯ মার্চ দাম বাড়ে ৯৪ ডলার ব্যারেল গিয়ে দাঁড়ায়। হরমুজ প্রণালী বন্ধের পরে ২০ মার্চ ব্যারেল প্রতি দাম পৌছায় শীর্ষে  ১১৯.৫০ ডলারে। ২৯ মার্চ দাম যায় প্রতি ব্যারেলে ১১২ ডলার। যদি জুন পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকে, ম্যাককুরি এবং গোল্ডম্যান স্যাক্সের বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ব্রেণ্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশ্বব্যাপী তেল ব্যবহারের এক-পঞ্চমাংশ, প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল আটকে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর পক্ষাঘাতে। বর্তমান যুদ্ধ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিঘ্ন ঘটিয়েছে। ১৯৭৩ সালের তেল সঙ্কটের পর তৈরি হওয়া আন্তঃসরকারি সংস্থা, আইইএ ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি তেলের বাজারে হস্তক্ষেপ করে দাম স্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। ইউক্রেন আক্রমণের পরে, তেলের দাম বাড়লে ওরা রিজার্ভ তেল ছাড়ার নির্দেশ দেয়। এবার আরও বেশি সক্রিয় হয়ে সদস্যদের ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল জরুরি ভিত্তিতে বাজারে ছাড়তে বলে। এটা ৩২ টি আইইএ সদস্য দেশের মোট জরুরি রিজার্ভের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। তবু বাজার স্থিতিশীল হয়নি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভারত, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলি। ফিলিপাইনে, ডিজেলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ লাফিয়ে উঠেছে। স্থানীয় পরিবহণ এবং লজিস্টিকস একেবারে অকেজো হয়ে পড়েছে। শুধু জ্বালানি তেল নয়, সরবরাহ শৃঙ্খলে জড়িত সব পেট্রোলিয়াম জাত রাসায়নিক শিল্প বিপর্যয়ের পথে। উপসাগরীয় অঞ্চল ইউরিয়া এবং সালফারের প্রধান উত্পাদক। শিপিং বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী সারের সরবরাহ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। যেহেতু মার্চ এবং এপ্রিল উত্তর গোলার্ধে প্রধান রোপণের মাস, তাই সারের অভাব জোগানের দুরবস্থা আনতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় (ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা) খাদ্যের দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল (জিসিসি) অর্থনীতিগুলি একটি পদ্ধতিগত ভাঙনের মুখোমুখি। কাতার এলএনজি রফতানির উপর ফোর্স মেজিউর (অপ্রত্যাশিত, অস্বাভাবিক ঘটনার দরুন চুক্তি পূরণ সম্ভব নয়) ঘোষণা করেছে। পণ্য স্থানান্তর করতে না পারায় সৌদি আরবের তেল উত্পাদন প্রতিদিন ৬ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি কমছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থানীয় খাদ্যের দাম ৪০ থেকে ১২০ শতাংশ বেড়েছে। ধনী দেশগুলির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও, শুষ্ক জলবায়ু এবং সীমিত আবাদযোগ্য জমির কারণে তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশ খাদ্য আমদানি করতে হয়। ব্রাজিল বর্তমানে এই অঞ্চলে শীর্ষ সামগ্রিক খাদ্য রফতানিকারক, উপসাগরীয় অঞ্চলের হিমায়িত হাঁস-মুরগি এবং চিনির একটি বিশাল অংশ সরবরাহ করে। ভারত বাসমতি চাল, ডাল এবং মশলার অপরিহার্য সরবরাহকারী। ফল শাকসবজি আসে মিশর, জর্ডান, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তুরস্ক থেকে। দুগ্ধজাত দ্রব্য আসে নেদারল্যান্ডস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড থেকে।

বৈশ্বিক মন্দা কি আসন্ন?

অর্থনীতিবিদরা বর্তমানে দুটি পরিস্থিতিতে বিভক্ত। একদল অর্থনীতিবিদ মনে করেন, যুদ্ধ খুব তাড়াতাড়ি মিটলে, মোটামুটি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বাজার স্বাভাবিক হলে, বিশ্বব্যাপী জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার পাবে মাত্র ০.৩ থেকে ০.৮ শতাংশ। উল্টোদিকে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত চললে, বৈশ্বিক মন্দা নিশ্চিত। এতোদিন চললে তেলের দাম ২০০ ডলার ছাড়াতে পারে। ইউরোপে জুড়ে স্থবিরতা এবং উপসাগরীয় দেশগুলিতে জিডিপি ১৪ শতাংশ পর্যন্ত পতন হঅয়ার সম্ভাবনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি তেল ‘নেট রফতানিকারক’ দেশ। ব্যবহারের চেয়ে বেশি পেট্রোলিয়াম উত্পাদন হয় সে দেশে। ফলে তেলের দাম সে ভাবে বাড়েনি। ওদের অস্বস্তি বাড়ে অন্য ভাবে। উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলের দেশগুলির কর্তৃত্বে ৩১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন ট্রেজারি বন্ড রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধের খরচ মেটাতে এই মার্কিন বন্ডের ব্যাপক বিক্রয় শুরু করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব অর্থনীতির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। বন্ড বিক্রি বাড়লে, বন্ডের দাম কমে। বন্ডের দাম এবং সুদের হার বিপরীত পথে চলে, মার্কিন সুদের হার বাড়বে। মার্কিন নাগরিকদের বন্ধক, গাড়ি ঋণ পাওয়া ব্যয়বহুল হবে। মার্কিন সরকারের নিজস্ব ঋণ সংগ্রহ আরও কঠিন হবে। উপসাগরীয় দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে তেল বিক্রয় থেকে অর্জিত অর্থ যা ‘পেট্রোডলার’ নামে পরিচিত, তা মার্কিন সম্পদে বিনিয়োগ করে। ট্রেজারি বন্ড যদি গণ বিক্রয় প্রক্রিয়ায় আসে ‘পেট্রোডলার’ সিস্টেম আঘাত পাবে। প্রাথমিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসাবে মার্কিন ডলার থেকে দূরে যেতে উত্সাহিত করবে। উচ্চ সুদের হার শেয়ার বাজারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আনে। একটি দুর্বল ডলার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকে আরও ব্যয়বহুল করে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে তুলতে পারে। উল্লেখ্য, এসব বন্ড বিক্রি করলে উপসাগরীয় দেশগুলোরও কিছু ক্ষতি তো হবে। দ্রুত বিক্রি করা মানে সাধারণত লোকসানে বিক্রি করা। বেশিরভাগ উপসাগরীয় মুদ্রা (যেমন সৌদি রিয়াল) মার্কিন ডলারের সঙ্গে সংযুক্ত। ডলারের পতনে তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এবং রিজার্ভের মূল্যকে অস্থিতিশীল করতে পারে। যুদ্ধ বেশি দিন চললে, উপসাগরীয় দেশগুলি যে ট্রেজারি বন্ডের গণ বিক্রয়ে যাবে না, তা বলা যাবে না।

ভারতের আর্থিক বোঝা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা করেছেন, ভারত সহ ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলির জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। এটি সম্পূর্ণ স্বস্তির মতো লাগলেও গত দশ দিনে মাত্র চারটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ অতিক্রম করেছে। বেশিরভাগ বৈশ্বিক বিমা কোম্পানি এখনও পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী কোনও জাহাজের বিমা করতে রাজি নয়। ফলে অনেক ভারতীয় ট্যাঙ্কার আটকা পড়ে রয়েছে। কেউ কেউ কেপ অফ গুড হোপের মতো দীর্ঘ পথ ধরে আসছে। ভারতীয় শোধনাগারগুলি এখন রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে পারছে, মার্কিন ‘অনুমতি’তেই। প্রতিদিন প্রায় ২ মিলিয়ন ব্যারেল পরিশোধন হচ্ছে। এটা সর্বকালের রেকর্ড।

ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক পূর্বাভাসে বলেছিল, ভারতের অর্থনীতি এখন উচ্চবৃদ্ধি, কম মুদ্রাস্ফীতির অর্থনীতি। অর্থনীতিতে একে বলে ‘গোল্ডিলকস’ অর্থনীতি, অর্থনীতি যা একদম সঠিক পথে চলে। গোল্ডম্যান স্যাকস এবং এএনজেড ভারতের ২০২৬  জিডিপির পূর্বাভাস ৭.২ শতাংশ থেকে ৬.৫ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। সেনসেক্স এবং নিফটি অত্যন্ত অস্থির। পয়লা মার্চ, সেনসেক্স ছিল ৮০,৬৩২ এই মুহূর্তে (৩০ মার্চ ২০২৬) সেনসেক্স ৭২,৬৪৯ এ দাঁড়িয়ে। ৯.৯৫ পতন। নিফটি-ও একই সময়ে ৯.৩ শতাংশ পতন ঘটেছে। বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে মনোনিবেশ করায় বাজার ‘মন্দা’। ভারতীয় মুদ্রা আইএনআর রেকর্ড সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। প্রতি ডলার মূল্য ৯৪ টাকায় গিয়ে পৌছেছে। কেবল তেল নয়, সমস্ত আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে। ভারতে পেট্রোল পাম্পগুলিতে তেলের দাম সে ভাবে বাড়েনি। তবে এলপিজি সঙ্কট রয়েছে। যেহেতু ভারতের ৬০ শতাংশ এলপিজি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে, তাই দেশব্যাপী ঘাটতি রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রান্নার গ্যাস সঙ্কট রোধে সরকার পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিতে ‘অতিরিক্ত ২০ শতাংশ এলপিজি বরাদ্দ’ ঘোষণা করেছে। ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) বর্তমানে মাত্র ৬৪ শতাংশ ধারণ ক্ষমতাতে রয়েছে। এই রিজার্ভগুলি কেবল ৯.৫ দিনের বাফার সরবরাহ করে। আইওসিএল, বিপিসিএল ইত্যাদি তেল সংস্থাগুলির স্টক অন্তর্ভুক্ত করলে, ৭৪ দিনের খরচের মতো তেল আছে নানান ভাবে। এর অর্থ আগামী দুই মাস ভারত চালিয়ে নেবে। তারপর কারও জানা নেই।

Related Articles