বাংলা কমিক্সের জগতে এক নতুন অধ্যায়
বর্তমানে বাংলা কমিক্সে এক নতুন ধারা নিয়ে এসে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বর্তমানে যে লেখক-তাঁর নাম চার্বাক দীপ্ত।
মৌসুমী ঘোষ (বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক): বাংলা সাহিত্যে কার্টুন বা কমিক্স বা সাংবাদিকতায় কমিক্সের আলোচনা বহুধা বিস্তৃত। সে আলোচনা প্রতিনিয়ত চর্চার বিষয়। শুধুমাত্র একটি বই বা একটি প্রবন্ধে এই আলোচনা সীমায়িত করে রাখা যাবে না।বাংলা নির্মল শিশু-কিশোর কমিক্সের জগতে নারায়ণ দেবনাথ এর নাম সর্বজনবিদিত। তাঁর চলে যাওয়া বাংলা সাহিত্য তথা কমিক্স, কার্টুনের জগতে অপূরণীয় ক্ষতি।
তিনি থাকাকালীনই বাংলা কমিক্সে উঠে এসেছিলেন সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজের সৃষ্ট চরিত্র রাপ্পা রায় তৈরি করেছিলেন। তা খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছাতে না পারলেও বাংলা কমিক্সের জগতে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। নিজ সৃষ্ট চরিত্র ছাড়াও সত্যজিতের ফেলুদা, শঙ্কু, তারিখে খুড়ো, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি’, বা পারলেও মতো জনপ্রিয় কিশোর সাহিত্যকে কমিক্সের মাঝে বন্দী করে বেশ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন-বাংলা কমিক্সকে। এসবতো ছিলই। এর মধ্যে আরেকটু পুনশ্চ কথা বলে নিই।
লি ফকের ফ্যান্টমকে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কলমে আমরা পেয়েছিলাম-অরণ্যদেবকে। কিংবা বিদেশি অ্যার্জে রচিত টিনটিনকে বাঙালির হৃদয়ে। তবে বর্তমানে বাংলা কমিক্সে এক নতুন ধারা নিয়ে এসে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বর্তমানে যে লেখক-তাঁর নাম চার্বাক দীপ্ত। তাঁর তৈরি কমিক্স ‘লুবলুর পৃথিবী’-বর্তমানে কমিক্সের জগতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বহুল পরিচিত এক জনপ্রিয় নাম। প্রচলিত ধারার মজা, হাসি, কৌতুক ধারার বাইরে তিনি বেশ কিছুটা গুরুগম্ভীর এক বিষয়বস্তু তুলে ধরেছেন তাঁর কমিক্সের বইয়ের পাতায়।যা হয়তো কিশোর সাহিত্যই, তবে তা পড়ে বিষয়বস্তু অনুধাবন করতে গেলে অভিভাবক বা শিক্ষকের সাহায্য অবশ্যই নিতে হবে। না হলে যে বয়সে বাহাদুর বেড়াল, হাঁদাভোঁদা, বাঁটুল বা নষ্টের, ফন্টে-কেল্টু নির্মল আনন্দের যোগান দেয় -সেখানে ‘লুবলুর পৃথিবী’ কমিক্স সেই কিশোরকে নিয়ে যাবে এক মগ্ন চৈতন্য পথে।ঘটনার গুরুগম্ভীরতায় নয়-মগ্নচৈতন্যের ফলে কিশোর মন তৈরি হবে-এক পরিশীলিত, মার্জিত, রুচিসম্পন্ন এবং দায়িত্বশীল নাগরিকে।
চেনা জীবনের ছকে বাইরে পৃথিবী, প্রকৃতির জগত সত্য না মায়া, উপনিষদের এই তত্ত্ব উঠে এসেছে এই কমিক্সে। কিশোর বয়সেই উপলব্ধি হবে ম্যাজিক রিয়েলিজম, কূটাভাষ, রাজনীতি থেকে সাম্যবাদ তথা সংগীত চর্চায়। আদৌ কি আমরা অস্তিত্বমূলক ভাবে আছি না গোটাটাই শূন্যতার ফানুস!সেই চিন্তাতেও ভাবিত করবে কিশোর মনকে।আমাদের অর্থাত মানবজগতের অস্তিত্বের বাইরে প্রকৃতিতে বা মহাজাগতিক বিশ্বে অন্যধারার প্রাণের সন্ধানের হাতছানিও ভাবনার ঢেউ তুলবে কিশোর মনে। সব মিলিয়ে সুন্দর প্রচ্ছদ এবং অসম্ভব ভালো আর্ট ওয়ার্কে মন কেড়ে নিয়েছে-আট থেকে আশি আপামর বাঙলির ।এইখানেই এই কমিক্সের সার্থকতা।


