জেলার ভোটের রাশ কি অনুব্রতের হাতে? মঞ্চ থেকেই ইঙ্গিত চন্দ্রনাথের
রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা
Truth Of Bengal: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বীরভূম জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর চর্চার জন্ম দিল তৃণমূল কংগ্রেসের এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। জেলার ভোটের রাশ কি আবারও তুলে দেওয়া হচ্ছে অনুব্রত মণ্ডল-এর হাতে? বোলপুরের জনসভা থেকে এমনই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিংহ।
সম্প্রতি বোলপুর-এর একটি ওয়ার্ডে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে চন্দ্রনাথ সিংহের পাশে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। সভার মাঝেই তিনি বলেন, বীরভূম জেলার নির্বাচনী লড়াইয়ে অনুব্রত মণ্ডলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে এবং তাঁর অভিজ্ঞতা ও সংগঠনের উপর নির্ভর করেই দল এগোবে। এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বীরভূম জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন গড়ে তোলা এবং বুথস্তরে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করার ক্ষেত্রে অনুব্রত মণ্ডলের ভূমিকা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেলার একাধিক কেন্দ্রে দলের সাফল্যের পিছনে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়। সেই অভিজ্ঞতাকেই কি আবারও কাজে লাগাতে চাইছে দলীয় নেতৃত্ব—এই প্রশ্ন উঠছে স্বাভাবিকভাবেই।
এদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সাম্প্রতিক বীরভূম সফর ঘিরেও রাজনৈতিক তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়েছে। সংগঠন মজবুত করা, কর্মীদের সক্রিয় করা এবং নির্বাচনের আগে জেলার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা—এই সবকিছু মিলিয়ে তাঁর সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। সেই প্রেক্ষাপটে চন্দ্রনাথ সিংহের মন্তব্য আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুব্রত মণ্ডলের উপর কোনও বিশেষ দায়িত্ব অর্পণের কথা ঘোষণা করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি এবং তাঁকে ঘিরে এই ধরনের মন্তব্য স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে বীরভূমের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল জেলায় অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে সামনে রেখে ভোটের লড়াইয়ে নামতে চায় দল—এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলিও এই ইস্যুকে হাতিয়ার করতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, জেলায় নির্বাচনী লড়াইয়ে জিততে গেলে অনুব্রত মণ্ডলের উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, বোলপুরের এই সভা থেকে যে বার্তা উঠে এসেছে, তা বীরভূম জেলার রাজনীতিতে নতুন করে সমীকরণ তৈরি করেছে। এখন দেখার, আগামী দিনে দলীয় নেতৃত্ব এই ইঙ্গিতকে কতটা বাস্তবে রূপ দেয় এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের মাটিতে ‘অনুব্রত ফ্যাক্টর’ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।






