৬ বছর পর জেলমুক্ত দেশদ্রোহিতায় অভিযুক্ত শার্জিল ইমাম! মিলল ১০ দিনের জামিন
জামিনের শর্ত হিসেবে ৫০,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ অর্থের দু’জন জামিনদার দাখিল করতে হয়েছে তাঁকে।
Truth of Bengal: ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার অন্যতম মূল অভিযুক্ত শার্জিল ইমাম দীর্ঘ ৬ বছর পর জেলের বাইরে পা রাখলেন। দিল্লির করকরডুমা আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার পর সম্প্রতি তিহার জেল থেকে মুক্তি পান তিনি। মূলত ছোট ভাইয়ের বিয়েতে যোগ দেওয়া এবং অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করার মানবিক খাতিরেই আদালত তাঁর এই জামিন মঞ্জুর করেছে। অতিরিক্ত দায়রা বিচারক সমীর বাজপেয়ী গত ৯ মার্চ শার্জিলের জামিনের আবেদন গ্রহণ করেন। তবে শার্জিল ছয় সপ্তাহের জামিন চাইলেও আদালত তাঁকে কেবল ২০ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। জামিনের শর্ত হিসেবে ৫০,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ অর্থের দু’জন জামিনদার দাখিল করতে হয়েছে তাঁকে।
আদালত এই ১০ দিনের জন্য শার্জিলের ওপর বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে: তিনি কোনোভাবেই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মামলার কোনো সাক্ষী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে না। নিজের বাড়ি এবং বিয়ের অনুষ্ঠানস্থল ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়া চলবে না। তদন্তকারী অফিসারকে নিজের সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে রাখতে হবে যাতে তাঁর অবস্থান ট্র্যাক করা যায়। শার্জিলের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছিলেন যে, আগামী ২৫ মার্চ তাঁর ছোট ভাই মুজ্জাম্মিল ইমামের বিয়ে। বড় ভাই হিসেবে ২২ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যে নির্ধারিত হলদি, মেহেন্দি, নিকাহ ও রিসেপশনের মতো অনুষ্ঠানগুলোতে তাঁর উপস্থিতি ও সহায়তা একান্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি শার্জিলের মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ছোট ভাই বিয়ের কাজে ব্যস্ত থাকায় মায়ের দেখভালের দায়িত্ব শার্জিলকে নিতে হবে বলেও আবেদনে জানানো হয়।
অন্যদিকে, সরকারি কৌঁসুলি এই জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, শার্জিলের নিয়মিত জামিনের আবেদন এর আগে নিম্ন আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত সব স্তরেই খারিজ হয়ে গিয়েছে। তিনি বাইরে বেরোলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করে সরকার পক্ষ। তবে উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে আদালত মানবিকতার খাতিরে ১০ দিনের জামিন মঞ্জুর করে। ২০২০ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর এই প্রথম জেলের বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ পেলেন শার্জিল। কাকতালীয়ভাবে এই অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তির ফলে দীর্ঘ ৬ বছর পর পরিবারের সঙ্গে জেলের বাইরে ঈদ কাটানোর সুযোগ পেলেন এই অভিযুক্ত। ৩০ মার্চ সময়সীমা শেষ হলেই তাঁকে পুনরায় জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।




