বিশ্ব খাদ্য প্রতিযোগিতায় বিশ্বখ্যাত মাস্টার শ্যেফ রা একত্রিত জেআইএস – জিএনআইএইচএম এ
কলকাতার পানিহাটিতে অবস্থিত ক্যাম্পাসে 'বিশ্ব খাদ্য প্রতিযোগিতা' ২০২৬
রাহুল চট্টোপাধ্যায়: বিশ্ব খাদ্য প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে যোগ দিতে জেআইএস – জিএনআইএইচএম কলকাতায় সমবেত হলেন বিশ্বসেরা মাস্টার শ্যেফ রা। জেআইএস গ্রুপের একটি শিক্ষামূলক উদ্যোগ—গুরু নানক ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্ট (জি এন আই এইচ এম)—কলকাতার পানিহাটিতে অবস্থিত তাদের ক্যাম্পাসে ‘বিশ্ব খাদ্য প্রতিযোগিতা’ ২০২৬-এর ১০ম সংস্করণের জমকালো চূড়ান্ত পর্বের আয়োজন করল। অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক রন্ধনশিল্পের মঞ্চ হিসেবে স্বীকৃত এই প্রতিযোগিতায় ৪০টি দেশের ১৬০ জন প্রতিযোগী এক ছাতার নিচে একত্রিত হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রন্ধনপ্রতিভা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী দক্ষতার এক অনন্য উদযাপন হলো।
এই জমকালো চূড়ান্ত পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় রন্ধনশিল্প জগতের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে—যাদের মধ্যে ছিলেন তারকা মাস্টার শ্যেফ সঞ্জীব কাপুর, কুনাল কাপুর, ড. পারভিন্দর সিং বালি, কলকাতা স্থিত রাশিয়ান ফেডারেশনের কন্সাল জেনারেল ম্যাক্সিম ভি কজোলভ, শ্যেফ বনফুল ব্যানার্জি ও লরেন্স গোমস সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
গত এক দশক ধরে, ‘বিশ্ব খাদ্য প্রতিযোগিতা’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা রন্ধনপ্রতিভা, শিল্প বিশেষজ্ঞ এবং হসপিটালিটি বা আতিথেয়তা শিল্পের শিক্ষার্থীদের একই মঞ্চে একত্রিত করে। এই আয়োজনটি রন্ধনশিল্পের উৎকর্ষ সাধনকে উৎসাহিত করে, রন্ধনশৈলীতে উদ্ভাবনের প্রেরণা জোগায় এবং খাদ্যের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে; পাশাপাশি এটি উদীয়মান শেফদের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পেশাদারদের কাছ থেকে শেখার এক সুবর্ণ সুযোগও করে দেয়।
‘বিশ্ব খাদ্য প্রতিযোগিতা’-র ১০ম সংস্করণ উপলক্ষে আয়োজিত রন্ধনশিল্পের এই তিন দিনব্যাপী উদযাপনে, বহু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগী ভারতে বসে নিজ নিজ দেশের ‘সিগনেচার ডিশ’ বা বিশেষ খাবারগুলো পরিবেশন করেন, যা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিচিত্র স্বাদের এক প্রাণবন্ত প্রদর্শনী হয়ে ওঠে। একই মঞ্চে বিভিন্ন দেশের রন্ধনশৈলীর এই বৈচিত্র্যময় উপস্থাপন এক অর্থবহ আন্তঃসাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ করে দেয় এবং পুরো আয়োজনটিকে খাদ্য, সৃজনশীলতা ও আন্তর্জাতিক রন্ধনশিল্পের সহযোগিতার এক অসাধারণ উৎসবে পরিণত করে। প্রতিযোগীরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রখ্যাত মাস্টার শ্যেফদের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পান এবং বিশ্বব্যাপী রন্ধনকৌশল ও রন্ধনশিল্পের ক্রমবিকাশমান ধারা সম্পর্কে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি ও দিকনির্দেশনা লাভ করেন।
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফলে, ‘শেফ প্রতিযোগিতা’ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন ভারতের দিব্যজ্যোতি সাহা,দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকার বোনোলো লেসুপি, তৃতীয় স্থানে ইন্দোনেশিয়ার নি লুহ পুতু অদিতি সাত্রিয়ানি। এই উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেআইএস গ্রুপের পরিচালক সর্দার সীমারপ্রীত সিং বলেন, বিশ্ব খাদ্য প্রতিযোগিতার দশম আসরটি রন্ধনশিল্পের নৈপুণ্য এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার এক উদযাপন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান শেফদের কলকাতায় স্বাগত জানাতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। এখানে তাঁদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী প্রয়াস রন্ধনশিল্পের উৎকর্ষ এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।


