১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ পেল লালগোলা, খুশির হাওয়া মুর্শিদাবাদে
এই আধুনিক প্রেক্ষাগৃহটি এলাকার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।
কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের লালগোলায় নির্মিত ৫০০ আসন বিশিষ্ট ‘মহারাজা রাও যোগেন্দ্র নারায়ণ রায় অডিটোরিয়াম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হলো। প্রায় ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক প্রেক্ষাগৃহটি এলাকার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সূচনায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফিতে কেটে অডিটোরিয়ামটির উদ্বোধন করা হয়। এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা, জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ খলিলুর রহমান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান এবং লালগোলা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মহম্মদ আলি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা শাসক মহম্মদ সামসুর রহমান, মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সচিব রেজওয়ান ওহাব, ভগবানগোলা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) বিমান হালদারসহ প্রশাসনের অন্যান্য পদস্থ আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, নতুন এই অডিটোরিয়ামটি চালু হওয়ার ফলে লালগোলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি আয়োজনের জন্য একটি আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি হলো। এই প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় এবং জেলা পরিষদের উদ্যোগে ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ হওয়ায় এখন লালগোলার স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ তাঁদের সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো এখানে সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন।”
সাংসদ খলিলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে জানান, “লালগোলাবাসীর জন্য এত সুন্দর একটি অডিটোরিয়াম উপহার দিতে পেরে আমরা গর্বিত। এই অডিটোরিয়াম নির্মাণের ক্ষেত্রে বিধায়ক মহম্মদ আলি নিরন্তর জেলা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং মানুষের দাবি তুলে ধরেছেন। সেই দাবির প্রতি সম্মান জানিয়েই জেলা পরিষদ এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে জেলাজুড়ে উন্নয়নের যে ধারা চলছে, এটি তারই একটি অংশ।”
বিধায়ক মহম্মদ আলি বলেন, “লালগোলা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে বহু বাচিক শিল্পী, সংগীতশিল্পী ও যন্ত্রসংগীতের সঙ্গে যুক্ত গুণী মানুষ রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই এখানে একটি উপযুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চের দাবি ছিল; জেলা পরিষদের সহযোগিতায় আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।” তিনি আরও জানান, আগামী দিনে লালগোলাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে এবং ধাপে ধাপে এলাকার সার্বিক উন্নয়নের কাজ চলবে।






