খেলা

জয়সূর্যর বিদায়ের সুর, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে পরিবর্তনের আভাস

ইংল্যান্ড সিরিজ চলাকালেই প্রায় দুই মাস আগে তিনি ঘনিষ্ঠদের বলেছিলেন, এই পদে দীর্ঘদিন থাকার পরিকল্পনা নেই।

Truth Of Bengal: টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিলেন শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ সনৎ জয়সূর্য। পাল্লেকেলেতে পাঁচ রানের সেই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে লঙ্কানদের বিশ্বকাপ অভিযান। ম্যাচ শেষে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন প্রাক্তন অধিনায়ক, যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে কিছু জানাননি তিনি।

জয়সূর্য জানিয়েছেন, দায়িত্ব ছাড়ার ভাবনা নতুন নয়। ইংল্যান্ড সিরিজ চলাকালেই প্রায় দুই মাস আগে তিনি ঘনিষ্ঠদের বলেছিলেন, এই পদে দীর্ঘদিন থাকার পরিকল্পনা নেই। তাঁর আশা ছিল, বিশ্বকাপে ভালো ফল এনে সম্মানজনকভাবে বিদায় নেবেন। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় আক্ষেপই সঙ্গী হয়েছে।

দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা করলেও তা কার্যকর হচ্ছে ঠিক কবে, সেটি স্পষ্ট নয়। তাঁর চুক্তির মেয়াদ জুন পর্যন্ত। সামনে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ রয়েছে, যদিও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে সেটি অনিশ্চিত। বোর্ড চাইলে আপাতত দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেন বলেও জানিয়েছেন জয়সূর্য। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এসএলসি যদি নতুন কোচ নিয়োগ দিতে পারে, সেটিই হবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কার প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন জয়সূর্য। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কয়েক মাসেই দল কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। আগস্টে ভারতকে হারিয়ে ২৭ বছর পর ওয়ানডে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জেতে শ্রীলঙ্কা। সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডকে ওভাল টেস্টে পরাজিত করে দলটি। একই বছরে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হারানো ছিল বড় অর্জন।

র‌্যাঙ্কিংয়েও উন্নতির দাবি করেছেন তিনি। ওয়ানডেতে আট-নয় নম্বর থেকে চার নম্বরে উন্নীত হওয়া, টেস্ট ও টি-২০ সংস্করণেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফেরা—এসবকেই তিনি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

তবে দায়িত্বের শেষ বছরে টি-২০ সংস্করণে ধারাবাহিক ব্যর্থতা চোখে পড়ার মতো। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে হার, গ্রুপ পর্বে জিম্বাবোয়ের কাছে পরাজয় এবং সুপার এইটে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে হার—সব মিলিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে দল। এর আগে এশিয়া কাপেও সুপার ফোরে সব ম্যাচে হেরে হতাশা বাড়িয়েছিল শ্রীলঙ্কা।