তৃণমূলে যোগ দিতেই সিপিএম থেকে বহিষ্কারে প্রতীক উর
শনিবার আমতলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভামঞ্চে প্রতীক উরকে যখন হাসিমুখে দেখা যাচ্ছে, ঠিক তারপরেই আলিমুদ্দিন থেকে এল তাঁর বহিষ্কারের খবর।
Truth Of Bengal: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলার রাজনীতিতে ঘটে গেল এক বড়সড় পটপরিবর্তন। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিপিএমের তরুণ এবং লড়াকু নেতা হিসেবে পরিচিত প্রতীক উর রহমান শেষ পর্যন্ত নাম লেখালেন তৃণমূল কংগ্রেসে। শনিবার আমতলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভামঞ্চে প্রতীক উরকে যখন হাসিমুখে দেখা যাচ্ছে, ঠিক তারপরেই আলিমুদ্দিন থেকে এল তাঁর বহিষ্কারের খবর। রেজ্জাক মোল্লা বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের দেখানো পথেই শেষ পর্যন্ত ‘বিদ্রোহী’ প্রতীক উর লাল ঝাণ্ডা ত্যাগ করে ঘাসফুলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন।
তৃণমূলে যোগ দিতেই সিপিএম থেকে বহিষ্কারে প্রতীক উর pic.twitter.com/d0ystDevB2
— TOB DIGITAL (@DigitalTob) February 22, 2026
গত কয়েক দিন ধরেই ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক অন্দরে প্রতীক উরের দলবদল নিয়ে গুঞ্জন তুঙ্গে ছিল। সিপিএম নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন, তাতে তাঁর অনুগামীরা সমাজমাধ্যমে আগে থেকেই নতুন পথের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। মজার বিষয় হলো, গত লোকসভা নির্বাচনে এই ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রতীক উর। সেই যুযুধান দুই পক্ষ এদিন এক মঞ্চে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-সহ একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ‘কর্পোরেট সংস্কৃতি’ চালুর অভিযোগ তুলে বঙ্গ রাজনীতিতে ঝড় তুলেছিলেন এই তরুণ নেতা।
প্রতীক উরের এই আকস্মিক বিদায়ে সিপিএম শিবিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শুরুতে নীরব থাকলেও, শেষ পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বাম নেতৃত্ব। সাংবাদিক বৈঠক করে মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘শত্রুপক্ষ’ অর্থাৎ তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কারণেই এই কড়া পদক্ষেপ। তবে কড়া রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আবেগের কথাও লুকোতে পারেননি সেলিম। শুক্রবারই তিনি আক্ষেপের সুরে জানিয়েছিলেন, প্রতীক উরের চলে যাওয়া তাঁর কাছে সন্তান হারানোর ব্যথার সমান। সেলিমের কথায়, “সন্তান হারালে একজন মানুষের যে অনুভূতি হয়, আমারও ঠিক তেমনটাই হচ্ছে।” এই ঘটনা একদিকে যেমন সিপিএমের ছাত্র-যুব সংগঠনের কাছে বড় ধাক্কা, তেমনই ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের শক্তি আরও বৃদ্ধি করল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।



