বালুরঘাটে পূর্ণ শ্রদ্ধায় পালিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
এরপর পর্যায়ক্রমে গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি ও আবৃত্তিনাট্যের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
Bangla Jago Desk: বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট : বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মানেই আলাদা আবেগ। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি, শহীদদের আত্মবলিদান আর মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলেমিশে এই জেলায় একুশে ফেব্রুয়ারি প্রতি বছরই হয়ে ওঠে শ্রদ্ধা ও সংস্কৃতির উৎসব।
প্রতিবেশী দেশে নানা অস্থিরতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মাতৃভাষা দিবসের আয়োজন কিছুটা ম্লান হলেও, বালুরঘাটে তার কোনও আঁচ লাগেনি। এ বছরও ব্যতিক্রম হল না।শনিবার সকালে বালুরঘাট নাট্যমন্দিরের প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করল প্রজ্ঞা ডান্স একাডেমি। সকাল থেকেই প্রাঙ্গণে জমে ওঠে ভাষা-স্মৃতির আবহ। প্রথমেই ভাষা শহীদ স্মারকে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন শহরের বিশিষ্টজনেরা।
উপস্থিত ছিলেন নাট্য ব্যক্তিত্ব জিষ্ণু নিয়োগী, প্রদোষ মিত্র, মনোজ গাঙ্গুলী, সংগীতশিল্পী রাজশ্রী গোস্বামী ও শান্তনু দে, পরিবেশকর্মী তুহিন শুভ্র মণ্ডলসহ সমাজের নানা স্তরের মানুষ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রজ্ঞা ডান্স একাডেমির ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা নৃত্যের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।ছোটদের সেই উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে একুশের চেতনা, যা দর্শকদের আবেগতাড়িত করে।
এরপর পর্যায়ক্রমে গান, নাচ, কবিতা আবৃত্তি ও আবৃত্তিনাট্যের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি আয়োজন। ভাষা দিবসের তাৎপর্য ও বর্তমান প্রজন্মের কাছে মাতৃভাষার প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রজ্ঞা ডান্স একাডেমির কর্ণধার ও সুপরিচিত নৃত্যশিল্পী সুচেতনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, মাতৃভাষাকে প্রণাম করা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষাচেতনা জাগিয়ে তোলাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। গান, নাচ, কবিতা ও আলোচনার মধ্য দিয়েই আমরা আজ একুশকে স্মরণ করছি।”সার্বিকভাবে বলা যায়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বালুরঘাট ফের একবার প্রমাণ করল, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়—এখানে তা পরিচয়, ইতিহাস আর আত্মসম্মানের প্রতীক।






