‘নিয়মের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’, রোনাল্ডোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল সৌদি লিগ কর্তৃপক্ষ
অভিযোগের তির গিয়ে পড়ে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)-এর দিকেও।
Truth Of Bengal: ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে ঘিরে ওঠা সাম্প্রতিক বিতর্কে স্পষ্ট অবস্থান নিল সৌদি প্রো লিগ কর্তৃপক্ষ। তাদের সোজাসাপটা বক্তব্য—দল বা লিগের সিদ্ধান্ত কোনও ব্যক্তির ইচ্ছায় চলবে না। নাম যত বড়ই হোক, নিয়মের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।বিতর্কের সূত্রপাত আল নাসেরের সাম্প্রতিক স্কোয়াড ঘোষণাকে ঘিরে। সোমবার আল রিয়াধের বিরুদ্ধে লিগ ম্যাচে রোনাল্ডোর নাম না থাকায় জল্পনা শুরু হয়। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়ায়, ক্লাবের পরিচালন কাঠামো নিয়ে অসন্তুষ্ট তারকা নাকি খেলতেই চাননি। অভিযোগের তির গিয়ে পড়ে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)-এর দিকেও।এদিকে, রোনাল্ডোর অস্বস্তির পেছনে আরেকটি কারণও দেখছেন ফুটবল মহলের একাংশ। তাঁর প্রাক্তন রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ করিম বেঞ্জিমা সম্প্রতি আল হিলালে যোগ দিয়ে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেছেন। লিগের শীর্ষে থাকা আল হিলালের এই শক্তিবৃদ্ধি রোনাল্ডোর চাপ আরও বাড়িয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আল নাসের ও আল হিলাল—দু’টি ক্লাবই পিআইএফ নিয়ন্ত্রিত।
এক বিবৃতিতে সৌদি প্রো লিগের মুখপাত্র বলেন, লিগের কাঠামো অত্যন্ত পরিষ্কার। প্রতিটি ক্লাব স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। বোর্ড, এক্সিকিউটিভ ও ফুটবল সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত দলের নিজস্ব। একই আর্থিক নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য।রোনাল্ডোর অবদান অবশ্য অস্বীকার করেনি লিগ। আল নাসেরে যোগ দেওয়ার পর থেকে ক্লাবের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও মানোন্নয়নে তাঁর বড় ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মুখপাত্র স্পষ্ট করে দেন, “জেতার খিদে তাঁর স্বভাবজাত। কিন্তু কোনও ব্যক্তিই—নাম যত বড়ই হোক—নিজের ক্লাবের বাইরে সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করতে পারে না।” সাম্প্রতিক ট্রান্সফারের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, একেকটি ক্লাব নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী দল গড়ছে—এটাই স্বাভাবিক।
২০২২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর আল নাসেরে যোগ দেন রোনাল্ডো এবং ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার হন। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর ঝুলিতে বড় সাফল্য বলতে রয়েছে শুধু আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স কাপ। চলতি বছরে নতুন চুক্তি করলেও, তার আগে আল হিলালে লোনে যাওয়ার জল্পনাও শোনা গিয়েছিল।বর্তমানে লিগে অপরাজিত আল হিলাল ২০ ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। আল নাসের চার পয়েন্ট পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে, যদিও একটি ম্যাচ হাতে রয়েছে। সৌদি লিগের মতে, এই প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যই প্রমাণ করে—সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করছে। সব মিলিয়ে ইঙ্গিত স্পষ্ট—সৌদি ফুটবল তারকা-নির্ভর হলেও নীতিনির্ধারণে কোনও ‘সুপারস্টার ভেটো’ নেই।





