আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি নির্বাচন কমিশন, এসআইআর নিয়ে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বাঘিনীর দিল্লী যাত্রা
বঙ্গের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি এই প্রক্রিয়া শুনুন আগে থেকেই রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ তুলেছে।
Truth Of Bengal: একে একে ছয়টা চিঠি নির্বাচন কমিশনকে দেওয়ার পরেও কোন উত্তর নেই। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এবার প্রশ্নের উত্তর পেতে ভারতের রাজধানীতে ঝড় তুলতে উপস্থিত তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, সোমবার নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সঙ্গে ১৫ জনের প্রতিনিধি দল থাকবে। তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কামান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বেশ কয়েকজন থাকছেন সেই প্রতিনিধি দলে। ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে।
যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রয়েছে। বঙ্গের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি এই প্রক্রিয়া শুনুন আগে থেকেই রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ তুলেছে। কিন্তু গত ১৬ ডিসেম্বর ভোটার খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় ৫৮ লক্ষের কিছু বেশি ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। যার মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৪ লক্ষের উপর। আর এখানেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, কোথায় রোহিঙ্গা? পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সব থেকে বড় আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে। ‘ঘুসপেটিয়া’ দের বার করবেন এমনও হুংকার দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে বিরোধীদের অনেকেই। কিন্তু পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্তর্জাতিক সীমানা দেখার দায়িত্ব বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স এর।
সেখানে রাজ্যের ভূমিকা কি হবে? এস আই আর শুরুর দিকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রথম চিঠিতে সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার পাশাপাশি আপাতত এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার আর্জিও জানিয়েছিলেন। এত কম সময়ে এবং অপরিকল্পিতভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া সামাল দিতে গিয়ে অনেক বিএলও’র মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি এসআইআর শুনানি পর্ব শুরু হওয়ার পর আতঙ্কে অনেক ভোটারদের মৃত্যুর অভিযোগও উঠেছে। যদিও এই বিএলও-দের মৃত্যু প্রসঙ্গে সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকদের থেকে রিপোর্ট চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা নিয়ে। অপরিকল্পিতভাবেই এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে।
এমন অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যেমন করা হয়েছে তেমনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিএলএ দের শুনানি পর্বে থাকার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাদের রায় জানায়। মাধ্যমিকের এডমিট কার্ড নিয়েও দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় রয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে মাইক্রো অবজারভার নিয়ে। কেন শুধু পশ্চিমবঙ্গে মাইক্রো অবজারভার? মুখ্যমন্ত্রীর ষষ্ঠ চিঠিতেও এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে নির্বাচন কমিশন কে। এই বিষয়ে এর আগে সিইও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেমন রোগ তেমন ওষুধ দিতে হবে। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন থেকে একাধিক স্পেশাল রোল অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে। গোটা বঙ্গের ক্ষেত্রে দায়িত্বে রয়েছেন স্পেশাল রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত।
সময়ের সীমার ব্যাপারটি আরেকটু বেশি হলে ভালো হতো এটা স্বীকার করেও সুব্রত বাবু জানিয়েছিলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার কাজ সহজ করেছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বাস্তবে সেটা হচ্ছে না। নামের ক্ষেত্রে বা নামের টাইটেল এর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অভিযোগ, কৃষিমন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে সায়ন দেব চট্টোপাধ্যায় কে ডেকে পাঠানো হয় ভোটার খসড়া তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও। বাবা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ছেড়ে ব্যানার্জি কেন লেখেন? এই ধরনের সমস্যার মুখে পড়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ভুগছেন। এমন প্রশ্নের উত্তর পেতেই মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই দিল্লিতে এসে পৌঁছেছেন। আজ বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হবেন নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। পঞ্চম চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন, জানি উত্তর পাব না তবুও কর্তব্য মানুষের হয়ে কথা বলার। ৬টা চিঠি দেওয়ার পরেও উত্তর পাওয়া যায়নি। এবার সেই উত্তর পেতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে। এস আই আর প্রক্রিয়া চলাকালীন বি এল ও হিসাবে কাজ করা মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ এবং বেঁচে থাকা অবস্থাতেও মৃত ভোটার হিসাবে দেখানো অভিযোগ উঠেছে। সেই সমস্ত পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন দিল্লিতে। তাদের নিয়ে দিল্লিতে কার্যক্রম করার পরিকল্পনাও রয়েছে।






