চলতি অর্থবর্ষের রেকর্ড ভাঙবে ভারত! অর্থনৈতিক সমীক্ষায় জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিলেন নির্মলা
উল্লেখযোগ্যভাবে, আগের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের জন্য জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল ৬.৩ থেকে ৬.৮ শতাংশের মধ্যে।
Truth Of Bengal: ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার আরও গতি পেতে চলেছে—এমনই ইঙ্গিত মিলল কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬’-এ। বৃহস্পতিবার দুপুরে লোকসভায় এই সমীক্ষা রিপোর্ট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। সমীক্ষা অনুযায়ী, আগামী অর্থবর্ষে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৮ শতাংশ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আগের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের জন্য জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল ৬.৩ থেকে ৬.৮ শতাংশের মধ্যে। সেই তুলনায় নতুন অর্থবর্ষে বৃদ্ধির হার আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। আন্তর্জাতিক স্তরে নানা ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীলভাবে এগোচ্ছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, পারিপার্শ্বিক ঝুঁকি সত্ত্বেও গঠনমূলক সংস্কারের পথেই ভারতের অর্থনীতিকে সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আরও কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রত্যাশিত মাত্রায় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে না পারলে, তা ভবিষ্যতে অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে সমীক্ষা।
এদিকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। এই সিদ্ধান্তের পর একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আশঙ্কা করেছিল যে, ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির গতি শ্লথ হতে পারে। তবে অর্থনৈতিক সমীক্ষার দাবি, কাঠামোগত সংস্কার ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার জোরে ভারত এই চাপ সামাল দিতে পেরেছে।
সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, আগামী অর্থবর্ষে দেশে মুদ্রাস্ফীতি ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। তবে তা রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া নির্ধারিত সহনীয় সীমার মধ্যেই থাকবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার মূল্য কিছুটা কমলেও, অশোধিত তেল ও খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে দেশ—যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করছে কেন্দ্র।


