দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টেনে রাজ্য পুলিশের ডিজিপি পদ থেকে বিদায় রাজীব কুমারের
১৯৮৯ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসারের বিদায়বেলায় উপস্থিত ছিলেন সহধর্মিণী সঞ্জিতা কুমার এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
Truth of Bengal: আগামী ৩১ জানুয়ারি অবসর নিতে চলেছেন রাজ্যের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) রাজীব কুমার। তার আগে বৃহস্পতিবার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে বিদায় সংবর্ধনা জানাল রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ। ১৯৮৯ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসারের বিদায়বেলায় উপস্থিত ছিলেন সহধর্মিণী সঞ্জিতা কুমার এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল সুসজ্জিত প্যারেড। ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে ওঠে রবীন্দ্রনাথের ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’। খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করার সময় মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছিল তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের কৃতিত্বের কথা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালীন নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে জুনিয়র সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন রাজীব কুমার। তিনি স্পষ্ট জানান, পুলিশ হতে গেলে সবার আগে দরকার ‘সাহস’। তাঁর মতে, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নিজের মতে টিকে থাকা এবং সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়ানোটাই আসল পুলিশিং।
নিজের বক্তব্যে বাংলার ভৌগোলিক গুরুত্ব ও চ্যালেঞ্জের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন বিদায়ী ডিজিপি। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে। নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ সীমান্তের সমস্যাগুলো সরাসরি এই রাজ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। এছাড়া দুর্গাপূজা বা গঙ্গাসাগরের মতো বিশাল মেলা সামলানো রাজ্য পুলিশের কাছে এক বড় পরীক্ষা। রাজীব কুমারের দাবি, বাংলার পুলিশ যেভাবে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে, তা গর্ব করার মতো। এই বাহিনীতে হোমগার্ড থেকে শুরু করে সিনিয়র অফিসার— প্রত্যেকের অবদান সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এদিন সমালোচকদের প্রতিও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তিনি। রাজীব কুমার বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া বা টিভিতে কী চর্চা হচ্ছে তা নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। নিজের বিবেক বা মনের কথা শুনে কাজ করাই আসল। তিনি মনে করিয়ে দেন, কর্তব্য পালন করতে গিয়ে রাজ্যের ২৫০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী আত্মবলিদান দিয়েছেন। সৎ পথে থেকে কাজের ওপর বিশ্বাস রাখলে অন্য কোনো আলোচনার প্রয়োজন পড়ে না বলেই তিনি মনে করেন। সবশেষে নিজের সাফল্যের কারিগর হিসেবে পরিবার, সহকর্মী এবং মা-ছেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বিদায়বেলায় পুলিশ বাহিনীকে ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস রেখে এবং পরিবারের পাশে থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে মঞ্চ ছাড়েন রাজীব কুমার।






