উধাও উত্তুরে হাওয়া! বঙ্গে কী তবে শীতের বিদায় হবে? কী জানাল হাওয়া অফিস?
কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে যে পারদ চড়তে শুরু করেছে, সেই ধারা আগামী ৪৮ ঘণ্টাতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
Truth of Bengal: মাঘ মাস চললেও বাংলার শীত এখন কার্যত নামমাত্র। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে কনকনে ঠান্ডার আমেজ আর ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। মূলত পশ্চিমী ঝঞ্ঝার দাপটেই উত্তুরে হাওয়া বাধা পাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাপমাত্রার ওপর। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে যে পারদ চড়তে শুরু করেছে, সেই ধারা আগামী ৪৮ ঘণ্টাতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে পাকিস্তান এবং সংলগ্ন জম্মু-কাশ্মীরের ওপর একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা অবস্থান করছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী ২৬ তারিখ আরও একটি ঝঞ্ঝা উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবেশ করতে পারে। এই জোড়া ঝঞ্ঝার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা আরও ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে ভোরের দিকে কিছুটা শিরশিরানি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তেজে শীতের ফিল পুরোপুরি উধাও হয়ে যাচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহ তাপমাত্রার খুব একটা বড় রদবদল হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় ঠান্ডার দাপট কমলেও কুয়াশার দাপট কিন্তু বজায় থাকবে। কলকাতা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার দাপট দেখা যাবে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বীরভূম এবং বর্ধমান জেলায় কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, অনেক জায়গায় দৃশ্যমানতা ২০০ মিটারে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভোরে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও কুয়াশা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলায় দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারে নেমে আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গের সমতলের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে। আগামী পাঁচ দিন তাপমাত্রার বিশেষ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই এবং আবহাওয়া মূলত শুকনো থাকবে।






