আন্তর্জাতিকদেশ

বাংলাদেশে ফের রহস্যমৃত্যু! নদী থেকে উদ্ধার কলেজ ছাত্রের দেহ, দানা বাঁধছে রহস্য

অভির বাড়ি বগুড়া জেলার আদমদিঘি উপজেলার সান্তাহার এলাকায়। তাঁর বাবার নাম রমেশ চন্দ্র।

Truth of Bengal: বাংলাদেশে পরপর দুই পড়ুয়ার মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে এক হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনার পর এবার নওগাঁ জেলায় একটি নদী থেকে উদ্ধার হল এক কলেজ ছাত্রের দেহ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শনিবার দুপুরে নওগাঁ শহরের কালীতলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন একটি নদী থেকে ওই দেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রথমে মৃতের পরিচয় জানা যায়নি। পরে জানা যায়, মৃত ছাত্রের নাম অভি। তিনি নওগাঁ জেলার একটি সরকারি কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের অনার্স পড়ুয়া ছিলেন। অভির বাড়ি বগুড়া জেলার আদমদিঘি উপজেলার সান্তাহার এলাকায়। তাঁর বাবার নাম রমেশ চন্দ্র।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ১১ জানুয়ারি বাড়িতে ঝগড়ার পর বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান অভি। সেই সময় থেকেই তাঁর কোনও খোঁজ মিলছিল না। গত সাত দিন ধরে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি সহ সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও তাঁর সন্ধান না মেলায় শেষ পর্যন্ত আদমদিঘি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। শনিবার নদী থেকে দেহ উদ্ধারের খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। অভি যে পোশাক পরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, সেই পোশাক দেখেই পরিবারের সদস্যরা দেহটি শনাক্ত করেন বলে স্থানীয় সংবাদপত্র দ্য ডেইলি অগ্রযাত্রা প্রতিদিন জানিয়েছে।

তবে অভির মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। এটি দুর্ঘটনা না কি এর নেপথ্যে অন্য কোনও ঘটনা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। নওগাঁ সদর থানার ওসি নিয়ামুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান। এর আগে, গত ১৮ জানুয়ারি পুরনো ঢাকার ভাটিখানা এলাকা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছিল, ওই ঘটনাটি আত্মহত্যা হতে পারে। তবে গত দুই মাস ধরে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর বাড়তে থাকা হিংসার আবহে পুলিশের এই প্রাথমিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ সম্প্রতি নতুন করে সামনে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক মাস ১৬ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে সহিংস ঘটনায়। এই ঘটনাগুলির মধ্যে ১৪টি মামলায় এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও চারটি মামলায় কোনও গ্রেফতার হয়নি। বেশ কয়েকটি ঘটনায় জনতার মারধর এবং প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস সম্প্রতি যে সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন, তাতে দাবি করা হয়েছে যে ২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ ঘটনাই ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত নয়, বরং সাধারণ অপরাধমূলক ঘটনা। যদিও এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন মানবাধিকার সংগঠন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশ।

Related Articles