কলকাতা

Kolkata High Court: ৫ বছরের শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে ত্রিমুখী লড়াই! আদালত কক্ষে নজিরবিহীন দৃশ্য

বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি শব্বর রাশিদির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আইনি লড়াইয়ের চেয়েও এখন বড় বিষয় হল ওই শিশুর কল্যাণ।

Truth of Bengal: কানাডায় জন্ম নেওয়া পাঁচ বছরের এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিশুর ভবিষ্যৎ এবং অভিভাবকত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রবাসী বাঙালি স্বামী ও এদেশীয় স্ত্রীর মধ্যে চলা তিক্ত দাম্পত্য কলহের জেরে শিশুটির জীবন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই লক্ষ্যেই আদালত দুপক্ষকে সমঝোতার পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছে। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি শব্বর রাশিদির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আইনি লড়াইয়ের চেয়েও এখন বড় বিষয় হল ওই শিশুর কল্যাণ।

সমস্যার একটি সম্মানজনক সমাধান খুঁজে পেতে আদালত এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয়। সরাসরি এজলাস থেকেই স্বামী এবং স্ত্রীকে ফোনে কথা বলে বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেয় বেঞ্চ। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালে এই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে তারা দুজনেই কর্মসূত্রে কানাডায় পাড়ি দেন। ২০২০ সালে সেখানে তাদের কন্যাসন্তানের জন্ম হয়, যার ফলে শিশুটি জন্মসূত্রেই কানাডার নাগরিক। এর মধ্যে স্বামীও ওই দেশের নাগরিকত্ব পেয়ে যান। কিন্তু দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছালে স্ত্রী শিশুটিকে নিয়ে ভারতে চলে আসেন।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে স্বামী কানাডার অন্টারিও আদালতের দ্বারস্থ হন। সেখানে তিনি সন্তানের অভিভাবকত্ব দাবি করেন এবং স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। অন্টারিও আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিশুটিকে কানাডায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু স্ত্রী সেই নির্দেশ অমান্য করায় স্বামী কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। স্ত্রীর অভিযোগ, কানাডায় তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তাই তিনি ফিরে যেতে অনিচ্ছুক।

কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মনে করছে, আদালতের নির্দেশের চেয়েও নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করা শিশুটির মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশি জরুরি। বিদেশি আদালত এবং দেশের আদালতের এই আইনি টানাপোড়েনের মাঝে পাঁচ বছরের এক শিশুর নাগরিকত্ব ও বেড়ে ওঠা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেটাই এখন আদালতের প্রধান অগ্রাধিকার। মামলার পরবর্তী শুনানিতে দম্পতি কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Related Articles