খসড়া তালিকা প্রকাশের পরও ঢিমেতালে কাজ! ২৫ ডিসেম্বর ভোটার তালিকার শুনানি
ওইদিন থেকেই শুনানির কার্যক্রম শুরু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া ঢিমেতালে হচ্ছে।
জয় চক্রবর্তী: এসআইআর পরবর্তী অধ্যায় শুনানি নোটিশ এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে দেওয়া হয়নি। ফলে শুনানি শুরুও হয়নি। বড়দিনের পর অর্থাৎ ২৫ ডিসেম্বরের পর শুনানি শুরু হওয়ার কথা বলে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে। গত ১৬ ডিসেম্বর ভোটার খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।
ওইদিন থেকেই শুনানির কার্যক্রম শুরু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া ঢিমেতালে হচ্ছে। ফলের শুনানি শুরু হওয়া দেরি হবে। শুনানি পর্বে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ওয়েবকাস্টিং ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখার কথা থাকলেও, সম্পূর্ণ ভাবে এখনও সেই পরিকাঠামো তৈরি করা যায়নি। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বা এসআইআর-এর শুনানি পর্বের তদারকি করতে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের মাইক্রো অবজারভার হিসাবে নিয়োগের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, মূলত কেন্দ্রের গ্রুপ ‘বি’ বা তার ঊর্ধ্বতন স্তরের আধিকারিকদেরই এই দায়িত্ব দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, গত ১২ ডিসেম্বর মাইক্রো অবজারভার নিয়োগের অনুমতি চেয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। সেই চিঠির জবাব দিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আধিকারিক নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে কমিশন। প্রয়োজনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আধিকারিকদেরও এই কাজে যুক্ত করা হতে পারে। শুনানি পর্বে নজরদারির দায়িত্বে থাকা মাইক্রো অবজারভার সাম্মানিক পাবেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর-এর শুনানি পর্বে ইআরও ও এইআরও কাজকর্ম পর্যবেক্ষণই হবে মাইক্রো অবজারভাদের প্রধান দায়িত্ব। ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধনের কাজে তাঁরা সহযোগিতা করবেন।
এনুমারেশন ফর্ম, ভোটারদের জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র-সহ শুনানিতে পেশ করা বিভিন্ন নথি যাচাইও করবেন তাঁরা। পাশাপাশি ভোটার তালিকার অসঙ্গতি চিহ্নিত করা ও পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণও থাকবে তাঁদের দায়িত্বে। মাইক্রো অবজারভাররা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অধীনেই কাজ করবেন এবং তাঁদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বও থাকবে সিইও দফতরের উপর। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও এই কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করবেন। সম্ভবত ৩৩০০ মাইক্রো রোল অবজারভার প্রয়োজন হবে। যদিও এখনও নির্দিষ্ট সংখ্যা স্থির করা হয়নি।
মাইক্রো অবজারভাররা পুরো শুনানি পর্বের উপর নজরদারি করবেন। তাঁরা যদি কোনও অসঙ্গতি দেখেন তা হলে প্রথমেই সেটা ইআরও, এইআরও তারপর ডিইও-কে জানাবেন। এদিকে বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার ৯৪ নম্বর বুথের বিএলও বিতর্ক নিয়ে শুক্রবার কমিশনের দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছে একজন ইআরও, তিনজন এইআরও এবং দুইজন বিএলও। অর্থাৎ মোট ছয় জনকে। অ্যাডিশনাল সিইও-র কাছে নিজেদের বক্তব্য রেখেছেন তাঁরা।
প্রথমে সোমা সেনকে বিএলও নিযুক্ত করা হয়। তিনি রামনগর ২ নম্বর জিপির পঞ্চায়েত সদস্যা। অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী দেবী হালদারকে বিএলও করা হয়। কিন্তু ওই দেবী হালদারের বদলে সোমা সেন বেশকিছু ফর্মে সই করেছেন, এমন অভিযোগ ওঠে। সেই কাণ্ডেই এই তলব বলে মনে করা হচ্ছে।






