North and South Dinajpur: উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বন্যার দাপট ঠেকাতে NDRF-এর বিশাল মহড়া
বিপদে প্রস্তুত থাকতে শুক্রবার আত্রাই নদীর সদর ঘাটে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যাপক মকড্রিল করল NDRF।
বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: সীমান্তঘেঁষা উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বর্ষা নামলেই বাড়ে আশঙ্কা। নাব্যতা হারানো নদীগুলির খামখেয়ালি আচরণে দু’জেলার মানুষকে প্রায় প্রতিবছরই মুখোমুখি হতে হয় বন্যার দাপটের। সেই সম্ভাব্য বিপদে প্রস্তুত থাকতে শুক্রবার আত্রাই নদীর সদর ঘাটে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যাপক মকড্রিল করল NDRF। উপস্থিত ছিলেন আপদা মিত্র, সিভিল ডিফেন্স ও অন্যান্য রেসকিউ বাহিনীর শতাধিক কর্মী।জানানো হয়েছে, জেলার জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে পরিকল্পিত এই মহড়ায় দেখানো হয় বন্যার সময় আটকে পড়া মানুষকে কীভাবে উদ্ধার করা হবে, কীভাবে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হবে, নৌকা ছাড়াও দড়ি, লাইফবয়, র্যাফট ব্যবহার করে কীভাবে দ্রুত এবং সুরক্ষিতভাবে রেসকিউ করা যায়—তাও হাতে-কলমে শেখানো হয় কর্মীদের।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের নদীগুলি বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে আবার বাংলাদেশেই প্রবেশ করেছে। অতিরিক্ত পলি জমে বছর বছরই নাব্যতা কমছে নদীর। ফলে জলের স্রোত সামান্য বাড়লেই সংলগ্ন এলাকাগুলিতে তৈরি হয় বন্যার পরিস্থিতি। তাই সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে প্রতিবছর এই মহড়া আয়োজন করা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।NDRF–এর ডেপুটি কমান্ডার সঞ্জয় কুমার রঞ্জন বলেন, “দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের কর্মীদের নিয়ে এই মকড্রিল করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী নদীগুলির অবস্থা বহু বছর ধরেই উদ্বেগজনক। তাই হঠাৎ বিপদ এলে যাতে আমরা মুহূর্তে রেসপন্ড করতে পারি, সেই প্রস্তুতিই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও জানান, “প্রতি বছরই এমন মহড়া করা হয়, যাতে রেসকিউ বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য বাস্তব পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন।”বাস্তবিকই বর্ষা এগিয়ে এলে সীমান্তবর্তী দুই জেলার প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। তবে এদিনের মকড্রিল অন্তত প্রমাণ করল—বিপদ এলে প্রস্তুতি কিন্তু তৈরি।






