Dinesh Lad: ২২-শিশুর ভরণ-পোষণ নিজের কাঁধে তুলে ওদের মধ্যেই ভবিষ্যতের রোহিতকে খুঁজছেন দীনেশ
কখনও সকালে আবার কখনও বিকেলে এই মাঠেই ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে বাচ্চাদের খেলা শেখান দীনেশ। কিন্তু দীনেশের আরও একটি মানবিক দিক রয়েছে।
সুদীপ্ত ভট্টাচার্য: প্রখ্যাত কোচ রামাকান্ত আচরেকর ভারতীয় ক্রিকেটে উপহার দিয়েছিলে শচীন রমেশ তেন্ডুলকর, বিনোদ কাম্বলির মত ক্রিকেটারকে। অপর দিকে বোরেলির দীনেশ লাডের কাছেই কৈশোরের ক্রিকেট পাঠ নিয়েছিলেন টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। সে দিক দিয়ে বলতে গেলে দীনেশ-ই রোহিতের প্রথম গুরু। বাণিজ্য নগরী মুম্বইয়ের বোরেলিতেই নিজের ক্রিকেট অ্যাকাডেমি রয়েছে দীনেশের। কখনও সকালে আবার কখনও বিকেলে এই মাঠেই ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে বাচ্চাদের খেলা শেখান দীনেশ। কিন্তু দীনেশের আরও একটি মানবিক দিক রয়েছে। যা হয়ত অনেকেরই অজানা। অবশ্য অজানা থাকারই কথা। প্রচার বিমুখ দীনেশ কখনই চাননি তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে হইচই হোক সংবাদ মাধ্যমে।
কিন্তু এবার দীনেশের সেই মানবিক দিকটাই আলোকপাত করা হল। বর্তমান যুগে যেখানে কেউ একটি বাচ্চার পড়াশোনা থেকে খেলাধুলো শেখানোর দায়িত্বে নিতে অপারগ বলে পাশ কাটান, সেখানে মুম্বইয়ের মত শহরে ২২টি শিশুর খেলোধুলোর পাশাপাশি তাঁদের পড়াশোনা, থাকা-খাওয়ার যাবতীয় দায়িত্ব এখন দীনেশের কাঁধে। এখানেই শেষ নয়, বাচ্চাদের সঙ্গে থাকা তাঁদের মা-বাবার ভরণ-পোষণও একাই সামলে চলেছেন দীনেশ। এত বিশাল কর্মকাণ্ড, কিভাবে প্রতিদিন এই দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করেন তিনি? জানতে চাইলে দীনেশের উত্তর, ‘সবই ভগবানের আশীর্বাদ। উনিই আমাকে পরিচালিত করেন। আর উনার নির্দেশেই আমি হয়ত এই গুরু দায়িত্ব পালন করে চলেছি।’
কিন্তু হঠাৎ এই পরিকল্পনা কেন? দীনেশ জানান, ‘না না এটা নতুন নয়। অনেকদিন ধরেই এই কাজ আমি করে চলেছি। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা না থাকায় ওদের কি ক্রিকেট খেলা বা পড়াশোনা করতে পারবে না, তা তো হতে পারে না, আমার আশা এদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ হয়ত আগামী দিনে টিম ইন্ডিয়ার তারকা হয়ে উঠবে। দীনেশ সত্যিই আপনি মানবতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। কাজেই সমগ্রহ দেশবাসী যেদিন আপনার এই কর্মকাণ্ডের কথা জানতে পারবেন, তখন তাঁরাও আপনাকে কুর্নিশ জানাবেন। এমনকি সেই তালিকায় থাকতে পারেন আপনার হাত ধরে ক্রিকেটের আঙিনায় উঠে রোহিত-ও।






