নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, ‘অপারেশন পিম্পল’-এ জঙ্গি দমন সেনার
তাতে এখন পর্যন্ত দুই জঙ্গি নিকেশ হয়েছে, আরও কয়েকজন জঙ্গি লুকিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Truth Of Bengal: শনিবার সকালেই ফের গুলির লড়াইয়ে উত্তপ্ত ভূস্বর্গ। জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার কেরান সেক্টরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিল ভারতীয় সেনা। সেনা সূত্রে খবর, এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন পিম্পল’। তাতে এখন পর্যন্ত দুই জঙ্গি নিকেশ হয়েছে, আরও কয়েকজন জঙ্গি লুকিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিনার কর্পসের এক্স হ্যান্ডেল থেকে জানানো হয়েছে, ৭ নভেম্বর নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান শুরু হয়। সেনা সদস্যরা ওই এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করতেই জঙ্গিদের চ্যালেঞ্জ জানায়।
জঙ্গিদের তরফে নির্বিচারে গুলি চালানো হলে, পাল্টা গুলি চালিয়ে দু’জনকে খতম করা হয়। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, অপারেশন এখনও চলছে এবং আশপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।সেনা সূত্রে খবর, জঙ্গিরা সংখ্যায় কত জন ছিল তা স্পষ্ট জানা যায়নি। তবে রাতভর দু’পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই চলে। জঙ্গিদের এক সময় কোণঠাসা করে ফেলে সেনা। তখন তারা আবার নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন চলে দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ।
প্রসঙ্গত, ১৪ অক্টোবরও কুপওয়ারা জেলার নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে সেনা, সেখানেও খতম হয় দুই জঙ্গি। জম্মু ও কাশ্মীরে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ নিয়ন্ত্রণরেখা এবং ২৪০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। উপত্যকার বারামুলা, কুপওয়ারা, বান্দিপোরা সহ জম্মুর বিভিন্ন অংশে প্রায়শই এই ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়।এরই মধ্যে শুক্রবারই ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ নেয় দেশ। হিন্দুস্তান এরোনটিক্স লিমিটেড এবং আমেরিকার- এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ১১৩টি জেট ইঞ্জিন পাবে, যা দেশীয় যুদ্ধবিমান ‘তেজস’-এ ব্যবহার করা হবে।
হিন্দুস্তান এরোনটিক্স লিমিটেড সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে এই ইঞ্জিন সরবরাহ শুরু হবে এবং ২০৩২ সালের মধ্যে সব ইঞ্জিন পাওয়া যাবে। প্রায় ৯৭টি তেজস বিমানের জন্য এই ইঞ্জিন কেনা হচ্ছে। এর ফলে ভারতের বায়ুসেনার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।তেজস একটি সিঙ্গল ইঞ্জিন যুদ্ধবিমান, যা কঠিন পরিস্থিতিতেও উড়তে সক্ষম। এটি আকাশ প্রতিরক্ষা ও উপকূল সুরক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই চুক্তি পাকিস্তানের জন্য ‘খারাপ খবর’, কারণ এতে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বায়ুসামরিক শক্তি আরও সুসংহত হবে।






