Sohrai festival: অযোধ্যা পাহাড়ে সহরায় পরবের ধুম! রঙ, ঢোল আর নাচে মুখরিত জঙ্গলমহল
গোটা গ্রাম সেজে ওঠে রঙিন আলোয়, সাজে সংস্কৃতির ছোঁয়ায়।
নয়ন কুইরী,পুরুলিয়া: কার্তিক মাসের অমাবস্যা মানেই জঙ্গলমহলে উৎসবের আমেজ। এই সময়েই পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় জুড়ে পালিত হয় আদিবাসীদের অন্যতম বৃহৎ উৎসব সহরাই বা বাঁধনা পরব। প্রায় ৭০টিরও বেশি গ্রাম জুড়ে উদযাপিত হয় এই পরব, যেখানে ধর্ম, ঐতিহ্য ও আনন্দ একাকার হয়ে যায়।পূর্ণিমার দুই দিন আগে থেকেই শুরু হয় তোড়জোড়।
গোটা গ্রাম সেজে ওঠে রঙিন আলোয়, সাজে সংস্কৃতির ছোঁয়ায়। অযোধ্যা পাহাড়ের প্রতিটি আদিবাসী পরিবারের বাড়ির দেওয়ালে আঁকা হয় নানারকম রঙিন চিত্র—কেউ তুলে ধরেন অযোধ্যা পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কেউ আবার রঙে ফুটিয়ে তোলেন বামনি ফলস, মার্বেল লেক কিংবা আপার ড্যামের দৃশ্য। উৎসবের মূল আকর্ষণ গরু বন্দনা বা ‘গো বন্দনা’ । গবাদি পশুদের সাজিয়ে, তাদের পূজা দিয়ে শুরু হয় সহরায় পরবের আনুষ্ঠানিকতা। তারপর নাচ, গান আর ঢোলের তালে মুখরিত হয়ে ওঠে পাহাড় ঘেরা গ্রামগুলো। অযোধ্যা পাহাড়ের বাসিন্দা অখিল সিং জানান, ‘ আমাদের পূর্বপুরুষেরা রাস পূর্ণিমাতেই এই উৎসব করতেন। সেই রীতি আজও মেনে চলি আমরা। গো বন্দনার মধ্য দিয়েই শুরু হয় উৎসব—এটাই আমাদের বছরের সবচেয়ে বড় পরব।‘
সহরায় উপলক্ষ্যে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব—সবাইকে নিমন্ত্রণ করে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দে মেতে ওঠেন গ্রামের মানুষজন। এক মাস আগে থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি—বাড়ির দেওয়ালে মাটির প্রলেপ দিয়ে রঙ করা, চিত্র আঁকা, ঢোল তবলা মেরামত, পোশাক তৈরি ইত্যাদি।বর্তমানে টানা সাত দিন ধরে চলছে অযোধ্যা পাহাড়ে সহরায় নাচের উৎসব। নাচে, গানে, রঙে আর ঐতিহ্যের আবহে ভরে উঠেছে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়—যেখানে প্রকৃতি ও সংস্কৃতি মিলেমিশে একাকার হয়েছে সহরায় পরবে।






