Kali Tradition: বিরাট আয়োজন নয়, কন্যার বিয়ে, চিরাচরিত নিয়ম মেনে কালীপুজো হয় নদীয়ার এই গ্রামে
যেভাবে বাঙালি বাড়িতে মেয়ের বিয়ে হয়, ঠিক সেই চিরাচরিত নিয়মনীতি মেনেই এই গ্রামের প্রত্যেক পরিবারে পালিত হয় কালীপুজো
মাধব দেবনাথ,নদিয়া: রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের আমলের সেই শক্তি আরাধনার ঐতিহ্যকে আজও এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে নদীয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম বেলপুকুর। এই গ্রামটি পরিচিত শুধু দীপাবলির আলোর ঝলকানিতেই নয়, বরং প্রতিটি ঘরে ঘরে দেবী কালীকে ‘ঘরের মেয়ে’ রূপে আরাধনা করার এক বিরল প্রথার জন্য। যেভাবে বাঙালি বাড়িতে মেয়ের বিয়ে হয়, ঠিক সেই চিরাচরিত নিয়মনীতি মেনেই এই গ্রামের প্রত্যেক পরিবারে পালিত হয় কালীপুজো।
নদীয়ার ধুবুলিয়া ব্লকের এই বেলপুকুর গ্রামে লক্ষ্মী পুজোর চেয়েও কালীপুজোর গুরুত্ব ঢের বেশি। গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই কালী আরাধনার রীতি প্রচলিত। হাতে গোনা কয়েকটি গৃহস্থ পরিবার ছাড়া বেশিরভাগই ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের বসবাস। আর প্রতিটি গৃহস্থ পরিবারেই দেবী কালীকে শুধুমাত্র প্রতিমা হিসেবে নয়, বরং বাড়ির কন্যা সন্তান রূপেই কল্পনা করা হয়। প্রচলিত আছে, নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় যখন শক্তি আরাধনার সূচনা করেন, তখন থেকেই এই গ্রামে ঘরে ঘরে কালীপুজোর এই প্রথা শুরু হয়।
দীপাবলি উৎসবকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগে থেকেই সেজে ওঠে গোটা বেলপুকুর গ্রাম। গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ এবং প্রতিটি ঘর ঝলমলে আলোক সজ্জায় সজ্জিত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আনা হয় রকমারি বাদ্যযন্ত্র, যা উৎসবের মেজাজকে আরও বাড়িয়ে তোলে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই দেবীর আরাধনায় আজও বজায় রয়েছে চিরাচরিত সাবেকি নিয়ম, এবং এই পুজোয় বলির প্রথাও প্রচলিত আছে। একসময় ইতিহাসের পাতায় নদিয়ার এই কালী আরাধনার উল্লেখ ছিল, যা আজও এই গ্রামের ঐতিহ্যের সাক্ষী।
গ্রামের অধিকাংশ মানুষই কৃষি কাজের সাথে যুক্ত। মাটির গন্ধ আর সবুজ প্রকৃতির মাঝে বসবাসকারী এই মানুষগুলির কাছে কালীপুজো কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি যেন এক মিলনক্ষেত্র। চাষবাসের ব্যস্ততা ভুলে গোটা গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে মেতে ওঠেন এই পুজোয়। তাই বলা যায়, ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর মতোই ঘরের মেয়ে কালীর আরাধনার এক অন্যতম নিদর্শন হল এই বেলপুকুর গ্রাম।






