অফবিট

শুধু একটি শহরের নাম নয়, রাজনৈতিক,সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসের অধ্যায় মুর্শিদাবাদ

নবাবি আমলের সেই ঐতিহ্য আজও মহকুমার নামের সঙ্গে বেঁচে আছে।

সুব্রত দত্ত:  মুর্শিদাবাদ শহরকে কেন লালবাগ বলা হয়?

ঐতিহ্যবাহী মুর্শিদাবাদ। অলিতে গলিতে রয়েছে ইতিহাস। মুর্শিদকুলি খাঁ থেকে সিরাজ-উদ-দৌলা। ইংরেজদের সঙ্গে সংঘাত নবাবের, বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তগামী হয় পলাশির যুদ্ধে সিরাজের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। মুর্শিদাবাদে আজও ইতিহাসের সেই সব স্মৃতি সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে। গঙ্গার তীরে আজও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে হাজারদুয়ারি। আরো কত ঐতিহাসিক সৌধ দাঁড়িয়ে রয়েছে মুর্শিদাবাদ এর বিভিন্ন স্থানে। আজও মুর্শিদাবাদে কান পাতলে যেন শোনা যায় নবাবদের কণ্ঠস্বর। বাংলা বিহার উড়িষ্যার রাজধানী তখন মুর্শিদাবাদ। যে মুর্শিদাবাদে হাজারদুয়ারি রয়েছে বা আরও অনেক ইতিহাস সৌধ দাড়িয়ে রয়েছে সেই শহর লালবাগ নামে পরিচিত।(Murshidabad)
জানুন লালবাগ নামের পিছনে আসল ইতিহাস। মুর্শিদাবাদ শহরকে অধিকাংশ মানুষ লালবাগ নামেই বেশি চেনেন। নবাবি আমলের সেই ঐতিহ্য আজও মহকুমার নামের সঙ্গে বেঁচে আছে। লালবাগ তাই শুধু একটি মহকুমা শহরের নাম নয়, এটি মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসের এক অমূল্য অধ্যায়।

[আরও পড়ুন: Lesbian Marriage: ইনস্টায় আলাপ থেকে প্রেম, দুবরাজপুরের শিবমন্দিরে নমিতার সঙ্গে মালাবদল সুস্মিতার!]

লালবাগ নামের উৎস: লোকমুখে কিংবদন্তি হয়ে আছে একসময় নবাবদের একটি প্রাসাদ ছিল এখানে। সেই প্রাসাদের ফুলবাগানে লাল ফুল এত ঘন ঘন ফুটত যে পুরো বাগান লাল আভায় রাঙিয়ে উঠত। তাই তার নাম হয় লালবাগ। উত্তর ভারতের বহু নবাবি শহরে যেমন লালবাগ পাওয়া যায়, তেমনি মুর্শিদাবাদেও এটি ছিল এক ঐতিহাসিক নিদর্শন।

বাগ-বাগিচার শহর মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদে ছিল অসংখ্য বাগ ও গঞ্জ। নবাব নাজিম বা তাঁদের আত্মীয়-স্বজন যেখানে প্রাসাদ, বাড়ি বা বাগান নির্মাণ করতেন, সেখানকার নামের সঙ্গে যুক্ত হত বাগ বা গঞ্জ। ফলে সৃষ্টি হয় নামের এক অনন্য ঐতিহ্য। এই ‘বাগ’ যোগে আজও আমরা পায় গোলাপবাগ, ফয়েজবাগ, গৌরীবাগ, আবদুলবাগ, দিলফরবাগ, নাগিনাবাগ, এনাতলিবাগ, সাদকবাগ, ফৌজবাগ, মুকুন্দবাগ, ফররাবাগ, রোশনীবাগ, খোসবাগ। যদিও এখন অনেক বাগ-বাগিচা বিলীন হয়ে গিয়েছে মুর্শিদাবাদ থেকে। বেঁচে আছে কেবল নাম।(Murshidabad)

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal

লালবাগ কুঠি ও কোর্টকাছারির ইতিহাস: নবাব আমলের সেই প্রাসাদ একসময় ভেঙে পড়ে। সেই সঙ্গে সেই লাল ফুলের বাগানও অস্তিত্ব হারায়। শোনা যায় লালবাগের প্রাসাদ ভেঙে পড়লে সেখানে তৈরি হয় কুঠি। সেই কুঠিতে নদীপথে ব্যবসা-বাণিজ্যের নৌকা থেকে শুল্ক আদায় করা হত। ইংরেজ আমলেও এই প্রথা চালু ছিল। পরে ইংরেজরা ঘাঁটি কলকাতায় নিয়ে আসেন। ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়া হলে ব্রিটিশ সরকার কুঠিকে রূপান্তর করে মহকুমা শাসকের কোর্ট ও কাছারিতে। সেই ঐতিহ্য আজও লালবাগে টিকে আছে।

লালবাগ প্রাসাদে ফররুখসিয়ারের আশ্রয়: লালবাগ শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক বৃত্তের কেন্দ্র ছিল। এখানে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ আশ্রয় দিয়েছিলেন নাবালক সাহজাদা ফররুখসিয়ার-কে। যিনি পরবর্তীতে দিল্লির সম্রাট হন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মা, আজিম-উস-সানের বেগম। সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর দিল্লির সিংহাসন নিয়ে শুরু হয়েছিল উত্তরাধিকারের লড়াই। আওরঙ্গজেবের ছেলে মোয়াজ্জেম (বাদশাহ বাহাদুর শাহ) দিল্লির মসনদে বসেন। তাঁর এক পুত্র আজিম-উস-সান ছিলেন বাংলার সুবাদার। কিন্তু বাংলার দায়িত্ব পরে চলে যায় মুর্শিদকুলি খাঁর হাতে, আর আজিম-উস-সানকে পাঠানো হয় বিহারে। বিদায়ের সময় তিনি তাঁর ছেলে ফররুখসিয়ারকে বাংলায় রেখে যান। ইতিহাস সাক্ষী—আজিম-উস-সান দিল্লির সিংহাসনে বসতে পারেননি, কিন্তু তাঁর পুত্র ফররুখসিয়ার পরবর্তীতে দিল্লির সম্রাট হয়েছিলেন।(Murshidabad)

হাইলাইট- লালবাগ শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক বৃত্তের কেন্দ্র ছিল। এখানে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ আশ্রয় দিয়েছিলেন নাবালক সাহজাদা ফররুখসিয়ার-কে। যিনি পরবর্তীতে দিল্লির সম্রাট হন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মা, আজিম-উস-সানের বেগম। সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর দিল্লির সিংহাসন নিয়ে শুরু হয়েছিল উত্তরাধিকারের লড়াই। আওরঙ্গজেবের ছেলে মোয়াজ্জেম (বাদশাহ বাহাদুর শাহ) দিল্লির মসনদে বসেন। তাঁর এক পুত্র আজিম-উস-সান ছিলেন বাংলার সুবাদার। কিন্তু বাংলার দায়িত্ব পরে চলে যায় মুর্শিদকুলি খাঁর হাতে, আর আজিম-উস-সানকে পাঠানো হয় বিহারে।

Related Articles