এশিয়া কাপে ভারতের কাছে লজ্জার হার পাকিস্তানের
আগের ম্যাচের দলকে অপরিবর্তিত রেখেই পাকিস্তানকে পরাজিত করার কৌশল ছকেছিলেন ভারতীয় কোচ।
Truth Of Bengal: জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত রবিবার এশিয়া কাপের ম্যাচে আরবের মাটিতে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রোহিতের পর এবার এশিয়ার মঞ্চেও পাকিস্তানকে মাটি ধরাল স্কাই ব্রিগেড। ভারত জয় পেল সাত উইকেটের বিনিময়ে। নিজের জন্মদিনে এমন জয় নিশ্চয়ই বহুদিন মনে রাখবেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক সূর্য কুমার যাদব। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দলে কোনওরকম পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চাননি টিম ইন্ডিয়ার প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। আগের ম্যাচের দলকে অপরিবর্তিত রেখেই পাকিস্তানকে পরাজিত করার কৌশল ছকেছিলেন ভারতীয় কোচ।
রবিবার ম্যাচের শুরুটা বল হাতে সূর্যদের দলের হয়ে শুরু করলেন হার্দিক। আর এই কৌশল অবলম্বনে শুরুতেই সাফল্য পেল ভারত। স্কোরবোর্ডে যখন পাকিস্তানের রান মাত্র ২, ঠিক তখনই ওপেনার সাইম আয়ুবকে প্যাভেলিয়নে ফিরিয়ে দিলেন হার্দিক। বুমরার হাতে শূন্য রানে ধরা পড়ে সাজঘরে ফিরলেন তিনি। এরপর মাত্র ৫ রান যোগ হতে না হতেই ফের পাক শিবিরে আঘাত হানলেন বুম… বুম.. বুমরা। ক্রিজে জমে ওঠার আগেই মহম্মদ হারিসকে প্যাভেলিয়নের পথ দেখালেন তিনি। হ্যারিসের সংগ্রহ মাত্র ৩ রান। হারিস ধরা পড়লেন হার্দিকের হাতে। দুই ওভারে ১০ রান ওঠার আগেই দু দুটো মূল্যবান উইকেট হারিয়ে তখন ক্রমশ ধুকতে শুরু করেছে NDIA সলমন ব্রিগেড।
এই অবস্থায় ক্রিজে এসে কিছুটা হাল ধরার চেষ্টা শুরু করার আগেই বুমরার বলে আউট হলেও রিভিউ-র মাধ্যমে বাঁচলেন ফকর। নিঃশ্বাস পেল পাক দল। কিন্তু তাই বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। মাত্র ১৭ রানের মাথাতেই সাজঘরে ফিরলেন ফকর। অক্ষরের বলে তিলকের হাতে ধরা পড়ে। এরপর পাক অধিনায়ক ফকরকে চটজলদি ফিরিয়ে দিলেন সেই অক্ষর। তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৩ রান। এই সময় পর পর মূল্যবান উইকেট হারিয়ে তখন আইসিইউতে ধুকতে শুরু করেছে পাক দল। জলদি প্যাভেলিয়নের পথ ধরলেন হাসান নওয়াজ-ও। কুলদীপের বলে ফিরতে হল তাঁকে।
একই ওভারে কুলদীপের শিকার মহম্মদ নওয়াজ। কোনও রান করেই ফিরতে হল তাঁকে। এখানেই আরও মেরুদণ্ড। ভেঙে যায় পাক দলের। এর মধ্যে ১০০ রান ওঠার আগেই আবার কুলদীপ ফিরিয়ে দিলেন সর্বোচ্চ ৪০ রান সংগ্রহকারী ফারহানকে। তবে মিডল অর্ডার ব্যাংকাররা ব্যর্থ হলেও শেষ বেলায় ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। ১৬ বলে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে মূল্যবান ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে মুকিম করলেন ১০ রান। তাঁকে ফেরালেন বুমরা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে নয় উইকেট হারিয়ে ১২৮ রানের টার্গেট খাড়া করেন সলমন-ফকর-আফ্রিদিরা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই মারমুখি হয়ে ওঠেন ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা। কিন্তু এই ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে পারলেন না শুভমন। মাত্র ১০ রানেই ফিরতে হল পঞ্জাব কা পুত্রকে। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না অভিষেক-ও। তাঁর সংগ্রহ ৩১ রান। দুই ওপেনার চটজলদি ফিরে যাওয়ার পর ভারতকে টানতে থাকেন অধিনায়ক স্কাই এবং তিলক। এই জুটিতে ভর করেই প্রায় জয়ের দোড়গোড়ায় পৌছে যায় টিম ইন্ডিয়া। তিলক ৩১ রানে আইয়ুবের বলে বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফিরলেও জয় আটকায়নি ভারতের। সুর্যের (অপরাজিত) ৪৭ এবং শিভম (অপরাজিত)-এর ১০ রানের সুবাদে সাত উইকেটের বিনিময়ে জয় হাসিল করে নেয় গম্ভীর ব্রিগেড।






