সম্পাদকীয়

বিজেপি শাসিত রাজ্যে চাকরির আকাল, ভরসা বাংলা

বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলোতে চাকরির যা অবস্থা তাদের বাংলার ওপরেই ভরসা করতে হচ্ছে।

ইন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়: রাজ্যে দীর্ঘ ৯ বছর পর এসএসসি-র নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে এবং তা নির্বিঘ্নে। দুবেলা যারা উঠতে বসতে বাংলার শ্রাদ্ধ করেন, রাম-বামের নেতাদের যে মুখ পুড়েছে সে বিষয়েও কোনও সন্দেহ নেই। সব চেয়ে বড় বিষয় হল বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলো থেকে একটি বড় অংশের পরীক্ষার্থীর অংশ গ্রহন। যেখানে তার সংখ্যা ছিল, ৩১ হাজার। উত্তরপ্রদেশ, বিহার ত্রিপুরা, রাজস্থান এর মতো ভাবল ইঞ্জিন সরকারের নেতৃত্বাধীন রাজ্যের চাকুরি প্রার্থীরা যেমন তাতে ছিলেন, তেমনই অবিজেপি রাজ্য ঝাড়খণ্ডও ছিল। বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলোতে চাকরির যা অবস্থা তাদের বাংলার ওপরেই ভরসা করতে হচ্ছে। আর এই স্বীকারোক্তি ভিন রাজ্যের চাকরি প্রার্থীদেরই। কোনও মনগড়া কথা নয়, বিজেপির ঝুলি থেকে একের পর  এক বিড়াল বেরিয়ে পড়ছে। তবু তাদের মিথ্যার চাদর দিয়ে সত্যকে ঢাকার প্রয়াস চলছে। এই তো কিছুদিন আগে রাজস্থানে কিছুদিন আগে কয়েকটি নিচু পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, যেখানে তেমন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন ছিলনা। কিন্তু দেখা গেল ওইসব পদের হাজার হাজার আবেদনপত্র জমা পড়ে। সব থেকে আশ্চর্য হওয়ার বিষয় হল যে, চাকরি প্রার্থীরা অনেকেই এম, এ, এম,এ বি এড, এম বি এ, পি এইচ ডি ডিগ্রিধারীরাও ছিলেন।  সারাদেশেই বেকারত্ব এখন চরম পর্যায়ে। (BJP)

আরও পড়ুনঃ পুজোর মুখে বৃষ্টির ভ্রুকুটি! দক্ষিণবঙ্গে বজায় থাকবে বৃষ্টির ধারা

বিশেষ করে বিজেপিশাসিত রাজ্য গুলোতে। তবু শাক দিয়ে মাছ ঢাকা, শুধু মিথ্যা তথ্য আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। শুধু ‘ঢপের কেত্তন’, মোদিজির এই অহরহ প্রতিশ্রুতি মানুষ বুঝে গিয়েছেন, তাঁরই মন্ত্রি-সভার সদস্য নীতিন গড়করি তাঁর না করে এ ব্যাপারে খোঁচা দিয়েছেন। মোদিজি- শাহজির প্রতিশ্রুতির ঝড় এখন বইবে, ২০২৬ এ বাংলার নির্বাচন পর্যন্ত। তারপরেই তাঁরা ডুমুরের ফুল, এপ্রিল ফুলও বলতে পারেন। সেই বছরে ২ কোটি চাকরি, প্রত্যেক গরীব মানুষের অ্যাকাউন্টে নগদ ১৫ লক্ষ টাকা। রাধাও নাচেনি আর সাত মন তেলও পোড়েনি। করোনাকালে ৫০ লক্ষ মানুষ রুজি হারিয়েছেন। কত পরিযায়ী শ্রমিক সেই সময় ঘরে ফেরার টানে রেল লাইনে ট্রেনে কেটে মৃত্যুবরণ করেছেন। মোদিজি শুধু ‘মন কী বাতে’ নিমগ্ন থেকেছেন। তাঁদের জন্য কিছু করা তো দূরের কথা, একবারও তাঁর তাদের জন্য অনুশোচনা হয়নি, তা দেশ দেখেছে। এরা নিজেরা ভাল কিছু করেনা, কাউকে করতেও দেয়না।  তাই বাংলার উন্নয়ন, বাংলার কর্ম সংস্থানে এরা বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৬-এর নিয়োগ দূর্নীতি মামলায় বাংলার ২৬ হাজার শিক্ষক, শিক্ষিকার চাকরি যায়।(BJP)

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal

কমরেড বিকাশ ভট্টাচার্যের মামলার প্রেক্ষিতে চাকরি গেল। তদানীন্তন কলকাতা হাইকোর্টের মহামান্য বিচারপতি রায়ও দিলেন, হুঙ্কারও দিলেন প্রতিমা থেকে ঢাকি বিসর্জনের। প্রাক্তন বিচারপতি পরবর্তীতে পচা শামুকে পা কাটলেন, বিজেপিতে যোগ দিয়ে দিলেন, টিকিটও পেলেন, সাংসদ -ও হলেন। আগে গট আপ ছিল কিনা জানিনা। লোকে তো বলে, বলবে নাই-বা- কেন? অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার মাধ্যমে যাঁদের নিয়োগ হয়েছিল বলে অভিযোগ, সেই ১৮০৬ জনের মধ্যে সেই প্রাক্তন বিচারপতি, বর্তমানে বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলীর নির্বাচনী এজেন্ট-এর স্ত্রীর ওই দুর্নীতির তালিকায় নাম রয়েছে। আরও বিজেপি নেতা কর্মীরও নাম ওই তালিকায়। এখানে কমরেডও আছেন। শাসক দলকে ওরা সব টার্গেট করে থাকেন। কী বন্ধু আপনারা? আপনারা তো সাপ হয়ে কামড়ে ওঝা হয়ে ঝাড়ছেন, আসলে সব পবন্ধু মাছ খায় আর  মাছরাঙার নাম হয়। রাম-বামের যৌথ প্রচেষ্টায় বাংলার চাকরিগুলো ৯ বছর ধরে আটকানো গেল ঠিকই, কিন্তু বিকাশবাবু, অভিজিৎ বাবুদের গায়ে যে কাদা লাগল তা কোন ডিটারজেন্ট পাউডারে ধোওয়া হবে শুনি? অনিয়মের মধ্যে দলীয় লোক-‘নাম শুনে বিজেপির যুক্তি ওরা আগে তৃণমূল ছিল। ২০১৬ তে শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ও তো তৃণমূলেই ছিলেন, সরকারে ছিলেন, কাঁথি, তমলুকে অধিকারী পরিবারের অনুমতি ছাড়া গাছের পাতাও নড়তো না, তাঁর কোনও সুপারিশে নিয়োগ হয়েছে কিনা, সেই প্রশ্ন রাজনীতির অঙিনায় উঁকি মারছে। তবে ইডি, সিবিআই এখন তাঁকে ছোঁওয়ার সাহস দেখাবে না।(BJP)

তবে যে প্রসঙ্গ টা বার বার ঘুরে ফিরে আসছে, সেটা হলে নতুন নিয়োগ, দেশের ডাবল ইঞ্জিন সরকার এক্ষেত্রে ব্যর্থ। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মসংস্থান ও নিয়োগ-এর ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে। বিজেপির কাছে সেটা চক্ষুশূল। ওরা তরুনের স্বপ্ন কেড়ে নেয়, হাত থেকে রুটি ছিনিয়ে নেয়, মমতা তাদের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেয়। তর মোদিজি বাংলায় ভাঁওতা দিতে ছাড়েন না। সোনার বাংলা গড়ার গল্প ফাঁদেন। সবকা সাথ, সবকা বিকাশ। যেন ‘রূপকথার গল্পের সোনার কাঠি, রূপোর কাঠি, মোদিজির হাতে, ছোঁয়ালেই যেন স্বর্গরাজ্য!

Related Articles